বেঙ্গালুরুতে কাটিগড়ার যুবকের অস্বাভাবিক মৃত্যু ঘিরে রহস্য

Spread the news

শমীন্দ্র পাল, কাটিগড়া।
বরাক তরঙ্গ, ২৮ সেপ্টেম্বর : কাটিগড়ার যুবকের বহিরাজ্যে অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনা সামনে আসায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। কর্মসূত্রে বেঙ্গালুরুতে থাকা কাটিগড়ার নুননগর গ্রামের এক যুবকের মৃত্যু ঘিরে তৈরি হয়েছে রহস্য। পরিবারের দাবি, এটি আত্মহত্যা নয়, বরং ওই যুবককে হত্যা করে ঘটনাটিকে আত্মহত্যার রূপ দেওয়া হয়ে থাকতে পারে।

মৃত যুবকের নাম সুমন আহমদ লস্কর, বয়স প্রায় ২৭ বছর। পরিবার সূত্রে জানা গেছে, প্রায় এক বছর আগে কর্মসূত্রে ব্যাঙ্গালোরে পাড়ি দিয়েছিলেন সুমন। সেখানে তিনি সিকিউরিটি কর্মী হিসেবে কাজ করতেন। পরিবারের বক্তব্য অনুযায়ী, কর্মজীবন স্বাভাবিকভাবেই চলছিল। কিন্তু হঠাৎই বাড়িতে আসে সুমনের মৃত্যুর খবর।

গলায় দড়ি দিয়ে আত্মহত্যা, নাকি পরিকল্পিতভাবে খুন? পরিবারের অভিযোগে উঠছে প্রশ্ন

পরিবারের কাছে পৌঁছায় সুমনের গলায় দড়ি লাগানো অবস্থার একটি ছবি। সেই ছবি দেখার পরই সন্দেহ দানা বাঁধে পরিবারের সদস্যদের মনে। সুমনের চাচা আবু বক্কর লস্কর এবং বড় ভাই মামন আহমদ লস্কর-সহ পরিবারের সদস্যদের দাবি, ছবির পরিস্থিতি দেখে তাঁদের কাছে ঘটনাটি আত্মহত্যা বলে মনে হচ্ছে না। পরিবারের অভিযোগ, মেঝেতে বসা অবস্থায় কীভাবে কেউ গলায় দড়ি দিয়ে আত্মহত্যা করতে পারেন—এই প্রশ্নই তাঁদের মনে বড় সন্দেহ তৈরি করেছে। তাঁদের আশঙ্কা, সুমনকে হত্যা করার পর ঘটনাটিকে আত্মহত্যা হিসেবে সাজিয়ে দেওয়া হয়ে থাকতে পারে।

ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়ে অসমের মুখ্যমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন মৃত যুবকের পরিবারের সদস্যরা। তাঁদের দাবি, ব্যাঙ্গালোরে সুমনের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ তদন্ত করে বের করা হোক এবং দোষী কেউ থাকলে তাঁর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হোক।

উল্লেখ্য, পরিবারের আর্থিক স্বচ্ছলতা ও জীবিকার তাগিদে অসমের বহু যুবক কর্মসূত্রে ভিনরাজ্যে পাড়ি দেন। কিন্তু তাঁদের মধ্যে কারও অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনা ঘটলে দূরবর্তী রাজ্যে থেকে পরিবারের পক্ষে প্রশাসনের কাছে বিষয়টি যথাযথভাবে তুলে ধরা এবং তদন্তের অগ্রগতি অনুসরণ করা অনেক সময় কঠিন হয়ে পড়ে।

এদিকে সুমন আহমদ লস্করের মৃত্যুর ঘটনায় পরিবারের উত্থাপিত অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত কতটা এগোয়, তাঁর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ আদৌ সামনে আসে কি না এবং পরিবার ন্যায়বিচার পায় কি না—এখন সেটাই দেখার বিষয়। ঘটনাটি নিয়ে এলাকায়ও নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *