বরাক তরঙ্গ, ১০ অক্টোবর : বিজেপি সংখ্যালঘু মোর্চার কাছাড় জেলা কমিটির উদ্যোগে শিলচর পুর নিগমের ১৭ নম্বর ওয়ার্ডের নবনির্বাচিত কাউন্সিলর তথা জেলা সংখ্যালঘু মোর্চার সভাপতি আতাউর রহমান লস্করকে সংবর্ধনা জানানো হয়েছে। জেলা বিজেপির মুখ্য কার্যালয়ে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তাঁকে শাল, গামছা, মানপত্র, স্মারক ও ফুলের মালা দিয়ে সম্মানিত করা হয়। একই অনুষ্ঠানে জেলা বিজেপির সভাপতি রূপম সাহা, সাধারণ সম্পাদক গোপাল দাস, জেলা সহ-সভাপতি তথা সংখ্যালঘু মোর্চার প্রভারী প্রসেনজিৎ ভট্টাচার্য এবং জেলা সম্পাদক সৌমিত্র কুমার দেবকেও সংবর্ধনা জানানো হয়।
জেলা সংখ্যালঘু মোর্চার ইনচার্জ সভাপতি আনোয়ার হোসেন আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় জেলা বিজেপির সভাপতি রূপম সাহা বলেন, সংখ্যালঘু মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যে বিজেপির প্রতি আগ্রহ বাড়ছে। তাঁর দাবি, নগাঁওয়ের মতো মুসলিম অধ্যুষিত এলাকা থেকেও বিজেপির সাংসদ নির্বাচিত হয়েছেন। পশ্চিমবঙ্গের রেজিনগর থেকেও বিজেপির বিধায়ক নির্বাচিত হওয়ার প্রসঙ্গ উল্লেখ করেন তিনি।
সভায় জেলা বিজেপির সহ-সভাপতি তথা সংখ্যালঘু মোর্চার প্রভারী প্রসেনজিৎ ভট্টাচার্য বলেন, বিজেপির টিকিটে বহু মুসলিম জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত হয়েছেন। সোনাইয়ের বিধায়ক আমিনুল হক লস্করের নাম সরাসরি উল্লেখ না করে তিনি দাবি করেন, বিজেপি তাঁকে টিকিট দিয়ে বিধায়ক নির্বাচিত করেছিল এবং পরে ডেপুটি স্পিকারের দায়িত্বও দিয়েছিল। তাঁর পরিবারের সদস্যকে কংগ্রেসের টিকিটে পৌর নিগম নির্বাচনে প্রার্থী করা যায়নি বলেও মন্তব্য করেন তিনি। পাশাপাশি, বিজেপির টিকিটে নির্বাচিত হয়ে বর্তমানে বিভিন্ন দায়িত্বে থাকা জনপ্রতিনিধিদের ধন্যবাদ জানান।

সংবর্ধনার জবাবে আতাউর রহমান লস্কর বলেন, তিনি ১৭ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর হিসেবে নয়, বরং ওয়ার্ডের একজন সেবক হিসেবেই আগামী পাঁচ বছর কাজ করতে চান। জনগণের সেবা করার জন্য প্রয়োজনীয় শক্তি ও সামর্থ্য কামনা করে তিনি আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করেন। ওয়ার্ডের উন্নয়নমূলক কাজ সম্পন্ন করতে উপস্থিত সকলের সহযোগিতা কামনা করার পাশাপাশি হিন্দু-মুসলিম নির্বিশেষে সবার আশীর্বাদও প্রার্থনা করেন তিনি। দলের পক্ষ থেকে অতীতে যে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, তা যথাসাধ্য পালন করেছেন বলেও জানান আতাউর রহমান। একই সঙ্গে তিনি সকলকে অসৎ ব্যক্তিদের থেকে দূরে থাকার পরামর্শ দেন।
অনুষ্ঠানের শুরুতে প্রারম্ভিক বক্তব্য রাখেন জেলা সংখ্যালঘু মোর্চার ইনচার্জ সভাপতি আনোয়ার হোসেন আহমদ। সভায় উপস্থিত ছিলেন অসম প্রদেশ বিজেপি সংখ্যালঘু মোর্চার কার্যকরী সদস্য তথা প্রাক্তন জেলা সভাপতি নজরুল ইসলাম বড়ভূইয়া, প্রাক্তন জেলা সভাপতি বাহারুল ইসলাম বড়ভূইয়া, সংখ্যালঘু মোর্চার মিডিয়া কনভেনার খাইরুল আলম মজুমদার, আব্দুল রেজাক বড়ভূইয়া, মিজাজুর রহমান লস্কর, সাইদুল বড়ভূইয়া ও ফারুক আহমেদ লস্করসহ দলের অন্যান্য পদাধিকারী ও সদস্য-সদস্যারা।



