বরাক তরঙ্গ, ২৮ জুন : জাতীয় টিকাকরণ দিবস উপলক্ষে রবিবার কাছাড় জেলাজুড়ে শুরু হয়েছে পালস পোলিও অভিযান। অভিযানের প্রথম দিনেই জেলার ১ লক্ষ ৯০ হাজারেরও বেশি শিশুকে ওরাল পোলিও ভ্যাকসিন (ওপিভি) খাওয়ানো হয়েছে। জেলা প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগের যৌথ উদ্যোগে শিলচরের আরবান প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্র এবং কালাইন কমিউনিটি হেলথ সেন্টারে আনুষ্ঠানিকভাবে এই কর্মসূচির সূচনা হয়।
শিলচরের আরবান প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে কর্মসূচির উদ্বোধন করেন বিধায়ক রাজদীপ রায়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা আয়ুক্ত (স্বাস্থ্য) মনোজ্যোতি কুটুম, যুগ্ম স্বাস্থ্য পরিষেবার যুগ্ম সঞ্চালক ডা. সুমনা নাইডিং, ডব্লিউএইচও-র সার্ভেইলেন্স মেডিক্যাল অফিসার ডাঃ অর্কদেব কর, জেলা টিকাকরণ আধিকারিক ডাঃ আব্দুল সালাম শেখ, এসডিএম অ্যান্ড এইচও (সদর) ডাঃ অনিন্দিতা চন্দ, আরবান পিএইচসির মেডিক্যাল অ্যান্ড হেলথ অফিসার ডা. কমলিকা দে-সহ স্বাস্থ্য বিভাগের বিভিন্ন আধিকারিক, আশা কর্মী, এএনএম ও এলএইচভিরা।
অনুষ্ঠানে ডাঃ সুমনা নাইডিং নিয়মিত টিকাকরণ ও পালস পোলিও অভিযানের গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি বলেন, শিশুদের টিকা-প্রতিরোধযোগ্য রোগ থেকে সুরক্ষিত রাখতে টিকাকরণ অত্যন্ত জরুরি। বিধায়ক রাজদীপ রায় অভিভাবকদের উদ্দেশে আহ্বান জানিয়ে বলেন, পাঁচ বছরের নিচের প্রতিটি শিশুকে পোলিওর দুই ফোঁটা টিকা খাওয়ানো ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে পোলিওমাইলাইটিসের মতো মারাত্মক রোগ থেকে রক্ষার অন্যতম কার্যকর উপায়।
অন্যদিকে, কালাইন কমিউনিটি হেলথ সেন্টারে বিধায়ক কমলাক্ষ দে পুরকায়স্থ এক শিশুকে ওরাল পোলিও ভ্যাকসিন খাইয়ে অভিযানের সূচনা করেন। উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত মুখ্য চিকিৎসা ও স্বাস্থ্য আধিকারিক (পরিবার কল্যাণ) ডাঃ এম আই বড়ভূইয়া, ডেপুটি সুপারিন্টেনডেন্ট ডাঃ এমএস ভৌমিক, ডাঃ পি রাংমাই, ডাঃ চিরশ্রী দেব, ডাঃ বিশ্বজিৎ নাথ, ব্লক প্রোগ্রাম ম্যানেজমেন্ট ইউনিটের সদস্য এবং স্বাস্থ্যকর্মীরা। ডা. বড়ভূঁইয়া বলেন, মাঠপর্যায়ে সমন্বিত প্রচেষ্টাই এই কর্মসূচির সফল বাস্তবায়নের মূল ভিত্তি।

স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, চলতি অভিযানে কাছাড় জেলায় শূন্য থেকে পাঁচ বছর বয়সী মোট ২ লক্ষ ৭৮ হাজার ৭৩ জন শিশুকে পোলিও টিকা দেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রথম দিনেই ১ লক্ষ ৯০ হাজারের বেশি শিশুকে টিকা দেওয়া হয়েছে, যা মোট লক্ষ্যমাত্রার প্রায় ৭০ শতাংশ।
এই অভিযান সফল করতে জেলাজুড়ে ১,৩১২টি পালস পোলিও বুথ স্থাপন করা হয়েছে। কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছেন ৫,২২৮ জন সম্মুখসারির স্বাস্থ্যকর্মী ও ২৬৭ জন সুপারভাইজার। এছাড়া ১,১৮৭টি সাধারণ বুথ, ৫৯টি দুর্গম বুথ, ২৮টি প্রাতিষ্ঠানিক বুথ, ৩৮টি ট্রানজিট বুথ এবং দুটি মোবাইল টিমের মাধ্যমে প্রত্যন্ত এলাকাতেও টিকাকরণ নিশ্চিত করা হচ্ছে।

রবিবার সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত বুথভিত্তিক টিকাদান চলে। এরপর থেকেই স্বাস্থ্যকর্মীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে যেসব শিশু বুথে আসতে পারেনি তাদের চিহ্নিত করার কাজ শুরু করেন। আগামী দুই দিন এই বাড়ি বাড়ি টিকাদান কর্মসূচি চলবে, যাতে জেলার পাঁচ বছরের নিচের কোনও শিশুই পোলিও টিকাকরণ থেকে বাদ না পড়ে।



