দীপ দেব, শিলচর।
বরাক তরঙ্গ, ২৮ মে : শিলচরে নেশাবিরোধী অভিযানে প্রশাসনের তৎপরতা বাড়লেও শহরের একাধিক এলাকায় এখনও প্রকাশ্যে মাদকসেবনে উদ্বেগ প্রকাশ করে সচেতন মহল। বিশেষ করে শিলচর সদর থানার পেছনের দেওয়াল সংলগ্ন এলাকা, ফাটকবাজার ও আশপাশের বিভিন্ন বাজার বিল্ডিংয়ের ছাদ সন্ধ্যার পর মাদকসেবীদের আড্ডাখানায় পরিণত হচ্ছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নেশামুক্ত ভারত ও নেশামুক্ত শিলচর গড়ার লক্ষ্যে প্রশাসন একাধিক উদ্যোগ গ্রহণ করলেও বাস্তবে মাদক সরবরাহ ও সেবন পুরোপুরি বন্ধ করা সম্ভব হয়নি। সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একাধিক ভিডিওতেও সন্ধ্যার পর প্রকাশ্যে মাদকসেবনের দৃশ্য ধরা পড়েছে। অভিযোগ, পুলিশ মাঝেমধ্যে অভিযান চালিয়ে মাদকদ্রব্য উদ্ধার ও নেশাসক্তদের আটক করলেও কিছুদিনের মধ্যেই একই জায়গা বা আশপাশের অন্যত্র ফের শুরু হয়ে যাচ্ছে অবৈধ কার্যকলাপ।

স্থানীয়দের মতে, মাদকসেবনের সঙ্গে চুরি, ছিনতাই ও অন্যান্য অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সরাসরি যোগ রয়েছে।
এদিকে, পুলিশের হাতে ধরা পড়া বহু নেশাসক্তকে দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসার জন্য নেশামুক্তি ও পুনর্বাসন কেন্দ্রে পাঠানো হলেও, সেখান থেকে বেরিয়ে আবারও নেশার জগতে ফিরে যাওয়ার ঘটনাও উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। ফলে প্রশ্ন উঠছে—পুনর্বাসন প্রক্রিয়া আদৌ কতটা কার্যকর, কিংবা পুনর্বাসনের পরে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনতে প্রয়োজনীয় সহায়তা মিলছে কি না।
সচেতন মহল ও ব্যবসায়ী সংগঠনগুলির একাংশের দাবি, শুধুমাত্র মানবাধিকার ও পুনর্বাসনের দোহাই দিয়ে সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। একদিকে যেমন শহরে নেশামুক্তি কেন্দ্রের সংখ্যা বাড়ছে, অন্যদিকে তেমনই বাড়ছে মাদকের কু-প্রভাবও। তাই প্রশাসনের কাছে তাদের দাবি, রাতের টহলদারি আরও জোরদার করা, মাদক সরবরাহ চক্র ভেঙে দেওয়া এবং নেশামুক্তি ও পুনর্বাসন কেন্দ্রগুলির কার্যকারিতা খতিয়ে দেখে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হোক।



