১৩ জুলাই : নাগরিকত্বের মতো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক প্রশ্নে ‘ন্যায্য, আইনসম্মত ও যুক্তিসঙ্গত প্রক্রিয়া’ অনুসরণ করতেই হবে। এই পর্যবেক্ষণ করে অসমে বিদেশি (Foreigner) হিসেবে ঘোষিত ২৭ জনের মামলায় বড় স্বস্তি দিল সুপ্রিম কোর্ট। শীর্ষ আদালত ওই ২৭ ব্যক্তিকে বিদেশি বলে ঘোষণা করে দেওয়া গুয়াহাটি হাইকোর্টের রায় বাতিল করে দিয়েছে। একইসঙ্গে বিচারপতি বিক্রম নাথ ও সন্দীপ মেহতার বেঞ্চ ২৭টি আপিল মঞ্জুর করেছে এবং সেগুলির নিষ্পত্তির জন্য মামলাগুলো সংশ্লিষ্ট ফরেনার্স ট্রাইবুনালে (Foreigners Tribunal) ফেরত পাঠিয়েছে।
সোমবার বিচারপতি বিক্রম নাথ এবং সন্দীপ মেহতার বেঞ্চ জানিয়েছে, কোনও ব্যক্তি ভারতীয় নাগরিক নাকি বিদেশি, তা নির্ধারণের প্রশ্ন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই এমন সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে নিজের বক্তব্য ও প্রমাণ পেশ করার পূর্ণ সুযোগ দিতে হবে। আদালত স্পষ্ট জানিয়েছে, প্রক্রিয়াগত ত্রুটির ভিত্তিতে কারও নাগরিকত্ব কেড়ে নেওয়া যায় না। আদালত বলেছে, নাগরিকত্ব একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক ও আইনগত বিষয়, যার নিষ্পত্তির সময় ন্যায্য নীতি কঠোর ভাবে মেনে চলা প্রয়োজন। তাই এই ধরনের মামলায় শুধুমাত্র প্রযুক্তিগত বা প্রক্রিয়াগত কারণে কোনও ব্যক্তিকে বিদেশি ঘোষণা করা ঠিক নয়।
আদালতের মতে, প্রত্যেক ব্যক্তির ন্যায্য শুনানি (Fair Hearing) পাওয়ার অধিকার রয়েছে এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া হতে হবে স্বচ্ছ, আইনসম্মত ও যুক্তিসঙ্গত। এ সম্পর্কে সুপ্রিম কোর্টে বিচারপতিদের মন্তব্য, ‘নাগরিকত্ব এবং বিদেশির মর্যাদা অত্যন্ত সাংবিধানিক ও আইনগত তাৎপর্যপূর্ণ একটি ক্ষেত্র। যাঁরা আইনত ভারতীয় নাগরিকত্ব দাবি করার অধিকারী নন, তাঁরা যেন প্রক্রিয়ার অপব্যবহার করে, মিথ্যা দাবি করে বা বিলম্বের সুযোগ নিয়ে এই মর্যাদা না পান, তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে রাষ্ট্রের একটি আইনসম্মত ও জোরালো স্বার্থ রয়েছে।’ তাই সময় নিয়ে নিয়ম-নীতি মেনে এই পর্যালোচনার প্রয়োজন রয়েছে বলে মনে করছে শীর্ষ আদালত।
এই ২৭ জনকে অসমের বিভিন্ন ফরেনার্স ট্রাইব্যুনাল বিদেশি বলে ঘোষণা করেছিল। পরে গুয়াহাটি হাইকোর্টও সেই সিদ্ধান্ত বহাল রাখে। অভিযোগ ছিল, শুনানির সময়ে অনেক ক্ষেত্রেই আবেদনকারীদের পর্যাপ্ত সুযোগ দেওয়া হয়নি অথবা প্রমাণ যথাযথভাবে বিবেচনা করা হয়নি। এর পরে তাঁরা সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হন।
সুপ্রিম কোর্ট গুয়াহাটি হাইকোর্টের রায় বাতিল করে সংশ্লিষ্ট ফরেনার্স ট্রাইব্যুনালগুলিকে নির্দেশ দিয়েছে, তারা যেন মামলাগুলির নতুন করে বিচার করে। শুনানির সময়ে আবেদনকারীদের সমস্ত নথি, সাক্ষ্যপ্রমাণ ও আইনি যুক্তি বিবেচনা করে আইন অনুযায়ী নতুন সিদ্ধান্ত নিতে হবে। ততদিন পর্যন্ত আগের বিদেশি ঘোষণার ভিত্তিতে তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া যাবে না।
অসমে বহু বছর ধরেই নাগরিকত্ব, এনআরসি (NRC), ডি-ভোটার (D-Voter) এবং ফরেনার্স ট্রাইবুনাল সংক্রান্ত মামলা নিয়ে বিতর্ক চলছে। এই পরিস্থিতিতে সুপ্রিম কোর্টের এই রায় স্পষ্ট বার্তা দিল যে, নাগরিকত্ব নির্ধারণের ক্ষেত্রে প্রশাসনিক দ্রুততার চেয়ে ন্যায্য বিচারপ্রক্রিয়াই বেশি গুরুত্বপূর্ণ। ভবিষ্যতে একই ধরনের মামলায় এই পর্যবেক্ষণ গুরুত্বপূর্ণ নজির হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
খবর : এই সময় অনলাইন।



