বরাক তরঙ্গ, ১৮ জুন : আসাম বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশবিদ্যা ও পরিবেশবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক পার্থঙ্কর চৌধুরী ব্রিটেনের অক্সফোর্ড ব্রুকস বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক সম্মেলনে অংশ নিলেন। ১৪ থেকে ১৭ জুন পর্যন্ত আয়োজিত এই সম্মেলনে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের গবেষক, বিশেষজ্ঞ ও প্রতিনিধিরা যোগ দেন। সম্মেলনে অধ্যাপক চৌধুরী ‘অসমে মানুষ-হাতি সংঘাত কমানোর দুটি প্রতিরোধমূলক পদ্ধতির তুলনামূলক মূল্যায়ন’ শীর্ষক একটি গবেষণাপত্র উপস্থাপন করেন।
গবেষণায় অসমের নগাঁও জেলার সোয়াং সংরক্ষিত অরণ্য এলাকায় মানুষ-হাতি সংঘাত কমানোর ক্ষেত্রে দুটি পদ্ধতির কার্যকারিতা যাচাই করা হয়েছে। পদ্ধতি দুটি হলো— স্বল্পক্ষমতাসম্পন্ন বৈদ্যুতিক বেড়া স্থাপন ও হাতির খাদ্য হিসেবে ব্যবহৃত পশুখাদ্য ফসলের চাষ। এই দুই পদ্ধতির মধ্যে কোনটি সংঘাত নিরসনে বেশি উপযোগী, তা নিরূপণের চেষ্টা করা হয়েছে গবেষণায়। অধ্যাপক চৌধুরীকে এই গবেষণার কাজে সহায়তা করেছেন ড. জেবি বৈশ্য ও ড. এনআর তালুকদার।

সম্মেলনের আয়োজক সংস্থা মানুষ ও বন্যপ্রাণীর সম্পর্ক, সহাবস্থান এবং বন্যপ্রাণীর ওপর মানবীয় কর্মকাণ্ডের প্রভাব নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে আসছে। মানুষ ও বন্যপ্রাণীর মধ্যে টেকসই ও সুস্থ সহাবস্থান নিশ্চিত করার লক্ষ্যে উদ্ভূত নানা সমস্যার সমাধান খোঁজাই সংস্থাটির মূল উদ্দেশ্য। পাশাপাশি বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে মানবিক দৃষ্টিভঙ্গির গুরুত্ব বাড়ানো এবং এই ক্ষেত্রের পেশাগত দক্ষতা উন্নয়নেও তারা কাজ করে যাচ্ছে।
এবারের সম্মেলনের মূল প্রতিপাদ্য ছিল ‘বন্যপ্রাণী ও মানবকল্যাণ’। সম্মেলনে মানুষ ও প্রকৃতির নিবিড় সম্পর্ক, শিল্প-সংস্কৃতিতে বন্যপ্রাণীর প্রভাব, কৃষি ও খাদ্য উৎপাদনের সঙ্গে বন্যপ্রাণীর সম্পর্ক, মানুষ-বন্যপ্রাণী সংঘাত ও সহাবস্থান, বন্যপ্রাণী সম্পর্কিত সামাজিক মূল্যবোধ এবং মানুষ ও প্রাণীর পারস্পরিক সম্পর্কসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। বিশ্বের নানা দেশের তিন শতাধিক অংশগ্রহণকারী, প্রতিনিধি ও বিশেষজ্ঞ এই সম্মেলনে মতবিনিময় করেন। বন্যপ্রাণীর সুস্থ ও টেকসই অস্তিত্ব রক্ষার লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে অনুষ্ঠিত এই আলোচনায় অধ্যাপক পার্থঙ্কর চৌধুরীর গবেষণাপত্র বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে বলে জানা গেছে।



