বরাক তরঙ্গ, ২০ আগস্ট : গোমতী জেলা পুলিশের কনস্টেবল টি/৩৭৯১ জয়ন্ত সাহাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে। বিধবার স্বাক্ষর জাল করে অর্থ আত্মসাতসহ একাধিক গুরুতর অভিযোগের বিভাগীয় তদন্তে দোষ প্রমাণিত হওয়ার পর তাঁর বিরুদ্ধে এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়। গোমতী জেলা পুলিশ সুপার অনির্বাণ দাসের জারি করা চূড়ান্ত আদেশ অনুযায়ী, ১৮ আগস্ট থেকে বরখাস্তের সিদ্ধান্ত কার্যকর হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫ সালে ৯ জানুয়ারি আরকেপুর থানায় জয়ন্ত সাহার বিরুদ্ধে মামলা রুজু হয়। তদন্ত শেষে তাঁর-সহ মোট ছয়জনের বিরুদ্ধে ২০ মে ২০২৫ চার্জশিট দাখিল করা হয়।
অন্যদিকে, উদয়পুরের কলেজটিলা এলাকার বাসিন্দা নিয়তি সরকার স্বাক্ষর জাল করে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে জয়ন্ত সাহা, তাঁর স্ত্রী প্রিয়ঙ্কা পাল এবং এইচডিএফসি ব্যাঙ্কের ম্যানেজার অভিষেক সরকারের বিরুদ্ধে পৃথক মামলা করেন। উদয়পুর শহরের লোপামুদ্রা হোমস্টের পক্ষ থেকেও অভিযোগ ওঠে, নির্ধারিত সময়ের আগে ফিক্সড ডিপোজিট ভেঙে জালিয়াতির মাধ্যমে অর্থ তুলে নেওয়া হয়েছে।
এই অভিযোগের ভিত্তিতে গোমতী পুলিশের বিভাগীয় মামলা নম্বর ০৭/২০২৪-এ জয়ন্ত সাহার বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্ত শুরু হয়। তদন্তকারী কর্মকর্তা ছিলেন ডেপুটি পুলিশ সুপার (ট্রাফিক) অভিজিৎ দাস।


তদন্তের সময় অভিযুক্ত কনস্টেবলকে আত্মপক্ষ সমর্থনের পূর্ণ সুযোগ দেওয়া হয়। সাক্ষীদের জবানবন্দি গ্রহণের পাশাপাশি তাঁদের জেরা করার সুযোগও দেওয়া হয়। লিখিত অভিযোগ, সরকারি নথি, গ্রেফতার-সংক্রান্ত কাগজপত্র এবং চার্জশিটসহ বিভিন্ন নথি পর্যালোচনা করে তদন্তকারী কর্মকর্তা অভিযোগগুলি প্রমাণিত হয়েছে বলে রিপোর্ট দেন। এরপর পুলিশ রেগুলেশনস, বেঙ্গল, ১৮৬১-এর রেগুলেশন ৮৬(১) অনুযায়ী জয়ন্ত সাহাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়। একই সঙ্গে সরকারি কিটসহ তাঁর কাছে থাকা সমস্ত সরকারি সামগ্রী গোমতী ধনগঞ্জ পুলিশ লাইনের সম্পত্তি কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এছাড়া আরকেপুর থানায় কর্মরত থাকাকালীন ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে থানার ওসিকে বদলির হুমকি, থানার নাম করে তোলাবাজি এবং জমি-বাড়ির দালালদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখার মতো অভিযোগও তাঁর বিরুদ্ধে উঠেছিল।



