রাজীব মজুমদার, ধলাই।
বরাক তরঙ্গ, ৬ জুলাই : অসম-মিজোরাম সীমান্তবর্তী লায়লাপুর বর্মনবস্তির একটি শিবমন্দিরে চুরি করতে গিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের হাতে আটক হল মিজোরামের এক যুবক। সোমবার ঘটে যাওয়া এই ঘটনায় এলাকাজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। পরে গ্রামবাসীরা আটক যুবককে লায়লাপুর পুলিশ পেট্রোল আউটপোস্টের পুলিশের হাতে তুলে দেন। তবে তার এক সঙ্গী ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। পলাতকের সন্ধানে তল্লাশি শুরু করেছে পুলিশ।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সোমবার ভোর সাড়ে চারটা নাগাদ চাদনা বর্মন প্রতিদিনের মতো শিব মন্দিরে পূজা দিতে গিয়ে দেখেন, দুই যুবক লোহার রড দিয়ে মন্দিরের তালা ভেঙে ইনভার্টারের বক্স খুলে নেওয়ার চেষ্টা করছে। তিনি চিৎকার করে আশপাশের মানুষকে সতর্ক করলে গ্রামবাসী ঘটনাস্থলে ছুটে এসে ধাওয়া করেন। এক যুবককে আটক করা সম্ভব হলেও অন্যজন পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়।
খবর পেয়ে লায়লাপুর পুলিশ পেট্রোল আউটপোস্টের পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে আটক যুবককে নিজেদের হেফাজতে নেয়। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, আটক যুবকের নাম জমসিয়ামা এবং পলাতক যুবকের নাম সঞ্জু। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, দু’জনই মিজোরামের বাসিন্দা। তবে তাদের পূর্ণাঙ্গ পরিচয় এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, এর আগেও ওই শিবমন্দিরের দানবাক্সে চুরির ঘটনা ঘটেছিল। তাঁদের দাবি, সীমান্তবর্তী লায়লাপুর এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে মাদক সেবন ও মাদক পাচারের প্রবণতা উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে। প্রতিদিনই পার্শ্ববর্তী রাজ্য মিজোরাম থেকে বহু মাদকাসক্ত ওই এলাকায় আসেন বলে অভিযোগ। স্থানীয়দের আরও দাবি, লায়লাপুর পুলিশ পেট্রোল আউটপোস্টের অদূরেই প্রকাশ্যে দেশি-বিদেশি মদের পাশাপাশি গাঁজা, হেরোইনসহ বিভিন্ন মাদকের কারবার চলে। এর ফলে এলাকায় মাদকাসক্তি বাড়ছে এবং যুবসমাজ অপরাধের দিকে ঝুঁকে পড়ছে। মাদকের অর্থ জোগাড় করতে গিয়ে অনেকেই চুরি, ছিনতাইসহ বিভিন্ন অসামাজিক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।
ঘটনার পর এলাকাবাসী জানান, বর্মনবস্তিতে দীর্ঘদিন ধরে হিন্দু ও মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষ সম্প্রীতির সঙ্গে বসবাস করে আসছেন। তাঁদের মতে, সময়মতো অভিযুক্তকে আটক করা না গেলে অযথা সাম্প্রদায়িক উত্তেজনার সৃষ্টি হতে পারত। তবে দুই সম্প্রদায়ের মানুষ একযোগে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রেখে অভিযুক্তকে পুলিশের হাতে তুলে দিয়ে সম্প্রীতির উজ্জ্বল নজির স্থাপন করেছেন।



