ডিব্রুগড় বিশ্ববিদ্যালয়ে বিএডে ভর্তি পাইয়ে দেওয়ার নামে প্রতারণা, গ্রেফতার ছাত্রনেতা

Spread the news

বরাক তরঙ্গ, ৬ জুলাই : উজানি অসমের বৌদ্ধিক ও উচ্চশিক্ষার অন্যতম প্রাণকেন্দ্র ডিব্রুগড় বিশ্ববিদ্যালয় এবার এক প্রতারণার ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিতর্কের মুখে পড়েছে। বিএড পাঠ্যক্রমে ভর্তি ও উত্তীর্ণ করিয়ে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে বিপুল অঙ্কের অর্থ আদায়ের অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতকোত্তর ছাত্র সংসদের সহ-সভাপতি মাধুর্য চেতিয়াকে।

জানা গেছে, সচেতন কিছু শিক্ষার্থী এবং প্রতারিত ছাত্রছাত্রীদের অনুসন্ধানে পুরো বিষয়টি সামনে আসে। অভিযোগ, গত কয়েক বছর ধরে বিএড কোর্সে আসন পাইয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে বিভিন্ন শিক্ষার্থীর কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা পর্যন্ত আদায় করা হয়েছে।

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করলে কর্তৃপক্ষ রজাভেটা পুলিশ ফাঁড়িতে এফআইআর দায়ের করে। অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করে পুলিশ এবং গ্রেফতার করে মাধুর্য চেতিয়াকে।

পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, অভিযুক্ত ছাত্রনেতা শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী। ঘটনার সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের আরও কয়েকজন ছাত্র জড়িত থাকতে পারেন বলে সন্দেহ প্রকাশ করেছে পুলিশ। সেই দিকটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

সোমবার ডিব্রুগড় পুলিশ জানায়, ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (BNS)-এর ৩১৮(৪), ৩১৯(২), ৩৩৬(৩) এবং ৩০৪(৬১)(২) ধারায় ২১৮ নম্বর মামলা রুজু করা হয়েছে। তদন্ত সঠিকভাবে এগোলে এই প্রতারণা চক্রের সঙ্গে জড়িত আরও ব্যক্তির নাম সামনে আসতে পারে বলে মনে করছেন সচেতন মহল।

স্থানীয়দের মতে, একজন ছাত্রের পক্ষে এককভাবে বিএডে আসন দেওয়ার নামে এত বড় অঙ্কের অর্থ সংগ্রহ করা সম্ভব নয়। ফলে এর পেছনে আরও বড় কোনও চক্র সক্রিয় থাকতে পারে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে।

ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর ডিব্রুগড় বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। তবে সোমবার পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ কিংবা পুলিশ আনুষ্ঠানিকভাবে সংবাদমাধ্যমের সামনে বিস্তারিত কোনও বক্তব্য দেয়নি। উচ্চশিক্ষার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই প্রতিষ্ঠানে এমন প্রতারণার অভিযোগ সামনে আসায় শিক্ষাঙ্গন ও সচেতন মহলে নানা প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *