২৯ অক্টোবর : উত্তরপ্রদেশ, মহারাষ্ট্র, বিহার ও কর্নাটকের ২৮টি বিধান পরিষদ আসনের ফলাফলে মিশ্র চিত্র দেখা গেলেও, রাজনৈতিক দিক থেকে সবচেয়ে বেশি চর্চা শুরু হয়েছে নাগপুর (Nagpur) আসনটি ঘিরে। ব্যালট পেপারে হওয়া এই নির্বাচনগুলির প্রাথমিক পর্বের ফলাফল হাতে আসার পর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (Narendra Modi) সামাজিক মাধ্যমে কংগ্রেসকে কটাক্ষ করে একটি পোস্ট করেছিলেন। সেখানে তিনি ব্যালট ভোটে কংগ্রেসের খাতা খোলা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন। মোদির ওই পোস্টের পর বিজেপির অন্দরে উল্লাসের পরিবেশ তৈরি হলেও, পরবর্তীতে নাগপুরের চিত্রটি পুরোপুরি বদলে যায়।

দীর্ঘ ৪০ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে চলা তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতার পর বৃহস্পতিবার ভোরে নাগপুর আসনে জয় ছিনিয়ে নেয় কংগ্রেস। বিজেপির হেভিওয়েট প্রার্থী সুধাকর কোহালেকে ৩,২৭১ ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করেন কংগ্রেসের বিদায়ী বিধায়ক অভিজিৎ ওয়াংজারি। সংঘের (RSS) সদর দপ্তর এবং মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবীস (Devendra Fadnavis) ও কেন্দ্রীয় মন্ত্রী নীতিন গড়করীর শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত এই অঞ্চলে এই পরাজয় গেরুয়া শিবিরের জন্য একটি বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে। মহারাষ্ট্রের সামগ্রিক পাঁচটির মধ্যে শাসক জোট মাত্র একটি আসন পেলেও, কংগ্রেস ও শারদ পাওয়ারের এনসিপি বাকি আসনগুলিতে নিজেদের আধিপত্য বজায় রেখেছে।

নাগপুরের এই নাটকীয় জয়ের পরেই আক্রমণাত্মক মেজাজে ময়দানে নামে কংগ্রেস। প্রধানমন্ত্রীর আগের সেই বার্তার জবাব দিয়ে কংগ্রেস নেতা পবন খেরা এক্স হ্যান্ডলে লেখেন, “আর তারপর… মোদি সাহেব নিজের লোকসভা কেন্দ্রেরই বিধান পরিষদ আসন হারালেন। শুধু তা-ই নয়, নাগপুরেও বিজেপি হেরে গেল। বলুন তো, নাগপুরে কারা জিতল?” শুধু তাই নয়, চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশের আগে নাগপুরে কংগ্রেসের ভরাডুবি হয়েছে দাবি করে ফড়নবীসের একটি পোস্টের স্ক্রিনশট শেয়ার করে মহারাষ্ট্র কংগ্রেস দাবি করে যে, পরিস্থিতি বিপদের দিকে এগোতে দেখেই শেষ পর্যন্ত সেই পোস্ট ডিলিট করতে বাধ্য হন মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী।



