বঙ্গে ৩১ সিটে হারের পিছনে দায়ী ‘SIR’? সুপ্রিমে তৃণমূলের যুক্তি খারিজ কর‍ল কমিশন

Spread the news

২৭ সেপ্টেম্বর : ২০২৬–এর বিধানসভা নির্বাচনে বাংলায় ৩১টি কেন্দ্রে তৃণমূলের হারের পিছনে ‘সার’–এর (ভোটার তালিকায় বিশেষ নিবিড় সংশোধন) মাধ্যমে ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ যাওয়ার প্রভাব ছিল— তৃণমূল সাংসদ ডেরেক ও’ব্রায়েনের এই দাবি সুপ্রিম কোর্টে খারিজ করল দেশের নির্বাচন কমিশন (ইসিআই)। শীর্ষ আদালতে হলফনামা দিয়ে কমিশনের দাবি, এই অভিযোগের ভিত্তি হিসেবে যে পরিসংখ্যান দেওয়া হয়েছে, তাতে ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়ার পৃথক পৃথক শ্রেণিকে এক করে দেখানো হয়েছে। ফলে ওই পরিসংখ্যান থেকে নির্বাচনী ফলাফলের উপরে সরাসরি নাম বাদের প্রভাবের সিদ্ধান্তে পৌঁছনো যায় না।

ডেরেকের যুক্তির পাল্টা কমিশন ২১টি আসনে তৃণমূলের জয়ের পরিসংখ্যান তুলে ধরেছে সুপ্রিম কোর্টে। কমিশনের দাবি, ওই আসনগুলিতে জয়ের ব্যবধানের চেয়ে ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়া নাম নিয়ে চলা শুনানির সংখ্যা অনেক বেশি। যেমন— কোচবিহারের সিতাইয়ে জয়ের ব্যবধান ২,৭২১, ট্রাইব্যুনালের শুনানির আওতায় নাম রয়েছে ২০,২১৩ জনের। মুর্শিদাবাদের সামশেরগঞ্জে ব্যবধান ৭,৫৮৭, শুনানিতে নাম রয়েছে ৭৪,৭৭৫ জনের। মুর্শিদাবাদের লালগোলায় ব্যবধান ১৮,৯৬০, শুনানিতে বিচারাধীন ৫৫,৪২০। ফলে বেছে বেছে এই মাপকাঠি প্রয়োগ করে ফল বাতিলের দাবি অসঙ্গত বলেই কমিশনের বক্তব্য।

কমিশনের বক্তব্য, ডেরেকের দেওয়া হিসেবের মধ্যে ‘এএসডিডি (অনুপস্থিত, স্থানান্তরিত, মৃত এবং ডুপ্লিকেট) হিসেবে চিহ্নিত ভোটারদের নাম বাদ দেওয়ার ঘটনাও ধরা হয়েছে। কমিশনের দাবি, এই প্রক্রিয়াকে বিচার বিভাগীয় আধিকারিকদের মাধ্যমে নাম বাদ দেওয়ার প্রক্রিয়ার সঙ্গে এক করে দেখা যায় না।

হলফনামায় কমিশন জানিয়েছে, খসড়া ভোটার তালিকায় থাকা যে ভোটারদের বিষয়ে আপত্তি বা শুনানির প্রয়োজন ছিল, কেবল তাঁদেরই নোটিস দেওয়া হয়েছিল এবং বিষয়গুলি বিচার বিভাগীয় আধিকারিকদের কাছে পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু ‘এএসডিডি’ হিসেবে চিহ্নিতদের ক্ষেত্রে কোনও নোটিস দেওয়া হয়নি।

কারণ, কমিশনের বক্তব্য, এই বিষয়গুলি কখনও বিচার বিভাগীয় আধিকারিকদের সামনে নিষ্পত্তির জন্য পাঠানোই হয়নি। তাই ভোটার তালিকা থেকে এই ধরনের নাম বাদ দেওয়াকে ‘কার্যত ভোটাধিকার হরণ’ হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা বিভ্রান্তিকর বলেও দাবি কমিশনের। একই সঙ্গে কমিশন জানিয়েছে, এই বাদ যাওয়া নামগুলির বিরুদ্ধে আপিল বিচার বিভাগীয় আধিকারিকদের কাছে বিচারাধীন ছিল— এমন দাবিও সঠিক নয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *