স্পেনে ভয়াবহ ট্রেন দুর্ঘটনায় মৃত্যু ৬৮ জনের, তিনদিনের রাষ্ট্রীয় শোক

Spread the news

২৯ অক্টোবর : স্পেনের তোলেদো প্রদেশে দু’টি উচ্চগতির ট্রেনের ভয়াবহ সংঘর্ষে মৃত্যু ঘটেছে ৬৮ জনের। এই দুর্ঘটনায় আরও ৭৭ জন আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে ১৫ জনের অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন স্পেনের স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোনিকা গার্সিয়া। দুর্ঘটনার পর বৃহস্পতিবার থেকে তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করেছেন প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ।

বিবিসি সূত্রে জানা গেছে, বুধবার সকালে স্পেনের মধ্যাঞ্চলের তোলেদো প্রদেশে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনায় জড়িত দু’টি ট্রেনই উচ্চগতির ছিল। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, রেনফে হাইস্পিড ট্রেন এবং ইরো ট্রেনের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। দুর্ঘটনায় প্রাণহানির সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

দুর্ঘটনার কারণ নিয়ে স্পেনের পরিবহণ মন্ত্রীর বক্তব্যে রেলওয়ের সিগন্যাল ব্যবস্থায় ত্রুটির বিষয়টি উঠে এসেছে। তাঁর দাবি, দুর্ঘটনাস্থলের রেলপথে সিগন্যালের সমস্যার কারণে ট্রেনগুলিকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে থামার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। সেই সময় ইরো ট্রেনটি প্রায় ২৫ কিলোমিটার সামনে দাঁড়িয়ে ছিল।

অন্যদিকে, পেছনে থাকা রেনফে ট্রেনটিকে লাল সিগন্যাল থাকা সত্ত্বেও চলার অনুমতি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। এমনকি ট্রেনটির গতির ওপরও কোনও নির্দিষ্ট সীমা আরোপ করা হয়নি বলে জানা গেছে। এর পর ঘণ্টায় প্রায় ২০০ কিলোমিটার গতিতে ছুটে এসে রেনফে ট্রেনটি ইরো ট্রেনকে ধাক্কা মারে।

প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ জানিয়েছেন, রেল নিরাপত্তাব্যবস্থায় কোনও ত্রুটি ধরা পড়লে দ্রুত তা সংশোধনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে। চলতি বছর একই রেলপথে আরেকটি দুর্ঘটনায় ৪৮ জনের মৃত্যুর প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রাথমিক পর্যালোচনায় আগের দুর্ঘটনার সঙ্গে বর্তমান ঘটনার কোনও মিল পাওয়া যায়নি। তবে পূর্ণাঙ্গ তদন্তের পরই প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া সম্ভব।

একই বছরে উচ্চগতির রেলব্যবস্থায় পরপর দু’টি দুর্ঘটনা অত্যন্ত উদ্বেগজনক বলে মন্তব্য করে তিনি যাত্রীদের আস্থা পুনরুদ্ধারে সরকারের সর্বোচ্চ প্রচেষ্টার আশ্বাস দিয়েছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *