২৯ অক্টোবর : ইজরায়েলের পার্লামেন্ট নেসেট নির্বাচনের ভোট গণনা চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছানোর সঙ্গে সঙ্গে দেশটির রাজনৈতিক পরিস্থিতি ক্রমশ উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। ৮৫.৬ শতাংশ ভোট গণনার পরও কোনও রাজনৈতিক জোট এককভাবে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ৬১টি আসনের সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত করতে পারেনি। এবারের নির্বাচনে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য ঘটনা হলো আরব নেতৃত্বাধীন রাজনৈতিক দলগুলোর নজিরবিহীন সাফল্য। অন্যদিকে, নির্বাচনে ব্যাপক কারচুপির অভিযোগ তুলে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছে প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন লিকুদ পার্টি।
ইজরায়েলের কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশনের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন ডানপন্থী জোট ৫৩টি আসন পেয়েছে। অন্যদিকে, গাদি আইজেনকটের নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোটের ঝুলিতে রয়েছে ৪৮টি আসন। তবে সব হিসাবকে ছাপিয়ে আরব নেতৃত্বাধীন দু’টি রাজনৈতিক দল—জয়েন্ট লিস্ট ও মনসুর আব্বাসের নেতৃত্বাধীন রা’আম—মোট ১৯টি আসন জয়ের পথে রয়েছে। এর মধ্যে জয়েন্ট লিস্ট ১২টি এবং রা’আম ৭টি আসন পেয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এই ফলাফল কার্যকর হলে ইজরায়েলের নির্বাচনী ইতিহাসে আরব দলগুলোর জন্য এটি হবে সর্বোচ্চ সাফল্য। এর আগে ২০২০ সালের নির্বাচনে আরব দলগুলো সর্বোচ্চ ১৫টি আসন পেয়েছিল। বিশ্লেষকদের মতে, আরব সম্প্রদায়ের মধ্যে ভোটদানের হার বৃদ্ধি এবং বিদায়ী সরকারের নীতির প্রতি অসন্তোষ এই সাফল্যের অন্যতম কারণ হতে পারে।

এদিকে, নির্বাচনে অনিয়মের অভিযোগ তুলে সরব হয়েছে লিকুদ পার্টি। দলটির দাবি, আরব দলগুলোর পক্ষে ভোট কারচুপি হয়েছে। এ বিষয়ে পুলিশ, অভ্যন্তরীণ গোয়েন্দা সংস্থা শিন বেত এবং কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশনের কাছে শত শত সাক্ষ্য-প্রমাণ জমা দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেছে দলটি। লিকুদের অভিযোগের মধ্যে রয়েছে, নগদ অর্থ ও রা’আমের ব্যালট স্লিপ বিতরণ, ভোটগ্রহণ কমিটির সদস্যদের ভয়ভীতি প্রদর্শন ও শারীরিকভাবে হেনস্তা করা, গোপন ভোটকক্ষে একাধিক ব্যক্তির প্রবেশ, জাল ভোটদান এবং খামের সংখ্যা ও ভোটারের সংখ্যার মধ্যে অসংগতি। পাশাপাশি ভোটারদের সংগঠিত করার সফটওয়্যারের অপব্যবহারের অভিযোগও তুলেছে দলটি।
এসব অভিযোগের ভিত্তিতে অবিলম্বে একটি উচ্চপর্যায়ের নিরপেক্ষ ও পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবি জানিয়েছে লিকুদ। তবে অভিযোগগুলোর সত্যতা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়ার তথ্য প্রতিবেদনে উল্লেখ নেই।

নির্বাচনের এই ফলাফল ইজরায়েলের সরকার গঠনের সমীকরণকে আরও জটিল করে তুলেছে। কোনও জোট একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পাওয়ায় আরব দলগুলোর অবস্থান সরকার গঠনের আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। ফলে ভোট গণনার চূড়ান্ত ফলাফল এবং কারচুপির অভিযোগের তদন্ত—দুইয়ের দিকেই এখন নজর রয়েছে দেশটির রাজনৈতিক মহলের।



