প্রয়াত কাতারের ‘ফাদার আমির’, ভারতে আজ একদিনের রাষ্ট্রীয় শোক পালন

Spread the news

১৩ জুলাই : কাতারের প্রাক্তন ‘ফাদার আমির’ শেখ হামাদ বিন খলিফা আল থানির প্রয়াণে শোকস্তব্ধ ভারত। সোমবার তাঁর প্রতি সম্মান জানিয়ে সারা দেশে একদিনের রাষ্ট্রীয় শোক পালনের (National mourning) ঘোষণা করেছে ভারত সরকার। ৭৪ বছর বয়সে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন আধুনিক কাতারের রূপকার হিসেবে পরিচিত এই কিংবদন্তি নেতা।

রবিবার রাতে ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে জানানো হয়, সোমবার ভারতের সমস্ত সরকারি ভবনে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত থাকবে। শোকের এই দিনে সরকারিভাবে কোনো ধরনের বিনোদনমূলক অনুষ্ঠান আয়োজিত হবে না। এদিন একদিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করেছে ভারত। রাষ্ট্রপতি ভবনে অর্ধনমিত রাখা হয়েছে জাতীয় পতাকা। শুধু রাষ্ট্রপতি ভবনই নয়, দেশের সরকারি ভবনে সোমবার অর্ধনমিত থাকবে জাতীয় পতাকা। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এই প্রয়াণে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। তিনি তাঁকে ভারতের ‘একনিষ্ঠ বন্ধু’ এবং কাতারের উন্নয়নের ‘visionary’ বা দূরদর্শী নেতা হিসেবে অভিহিত করেছেন।

সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রধানমন্ত্রী মোদি লিখেছেন, “কাতারের অসামান্য উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির নেপথ্যে থাকা দূরদর্শী নেতাকে আমরা শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছি। তিনি ভারতেরও প্রকৃত বন্ধু ছিলেন। ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে আমার কাতার সফরের সময় তাঁর সঙ্গে দেখা হওয়াটা আমার জন্য এক বিশেষ সম্মান ছিল।” প্রধানমন্ত্রী কাতারের বর্তমান আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল-থানি এবং রাজপরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী কিরেন রিজিজু ভারত সরকারের প্রতিনিধি হিসেবে শীঘ্রই কাতার সফর করে শোকবার্তা পৌঁছে দেবেন।

১৯৯৫ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত কাতার শাসন করেছেন শেখ হামাদ বিন খলিফা আল-থানি। তাঁকে কাতারের আধুনিক রূপান্তরের মূল কারিগর বলা হয়। তাঁর শাসনামলেই কাতার বিশ্বের বৃহত্তম তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (LNG) রপ্তানিকারক দেশে পরিণত হয়। তাঁর দূরদর্শী নেতৃত্বে কাতারের অর্থনৈতিক, সামাজিক এবং সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে অভূতপূর্ব উন্নয়ন সাধিত হয়, যা দেশটিকে আন্তর্জাতিক মঞ্চে এক শক্তিশালী অবস্থানে নিয়ে দাঁড় করায়।

তাঁর আমলে কাতার ও ভারতের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কেরও দ্রুত উন্নতি ঘটে। ১৯৯৯, ২০০৫ এবং ২০১২ সালে তিনি ভারত সফর করেছিলেন, যা দুই দেশের সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যায়। তাঁর সময়ে কাতারে প্রবাসী ভারতীয়দের সংখ্যাও উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায়। প্রিয় নেতার মৃত্যুতে কাতার সরকার ইতিমধ্যেই চার দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করেছে। মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতি এবং অর্থনীতির এক উজ্জ্বল নক্ষত্রের বিদায়ে আজ সারা বিশ্বেই শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *