১৩ জুলাই : হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে। ইরানের মাহশাহর শহরের একটি কৃষি পানি পাম্পিং স্টেশনে মার্কিন হামলায় একজন নিহত এবং চারজন আহত হয়েছেন। এ ঘটনার পর তেহরান অভিযোগ করেছে, সাম্প্রতিক এই হামলার ফলে গত কয়েক মাসের সব কূটনৈতিক প্রচেষ্টা কার্যত ভেস্তে গেছে।
ইরানি কর্মকর্তাদের দাবি, ওয়াশিংটনের সামরিক পদক্ষেপ দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা প্রশমনের উদ্যোগকে বড় ধরনের ধাক্কা দিয়েছে। একই সঙ্গে তারা অভিযোগ করেন, যুক্তরাষ্ট্রের এ ধরনের অভিযান মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও অস্থিতিশীল করে তুলছে।
অন্যদিকে, মার্কিন সামরিক বাহিনীর এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড করপস (আইআরজিসি)-এর হামলার পরই যুক্তরাষ্ট্র নতুন সামরিক অভিযান শুরু করে। ওয়াশিংটনের দাবি, আন্তর্জাতিক নৌপথে জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন রুট হরমুজ প্রণালি দিয়ে বৈশ্বিক সামুদ্রিক বাণিজ্যের উল্লেখযোগ্য অংশ পরিচালিত হয়। ফলে এই জলপথকে কেন্দ্র করে যেকোনো সংঘাত আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজার ও বৈশ্বিক অর্থনীতিতে ব্যাপক প্রভাব ফেলতে পারে বলে বিশ্লেষকদের আশঙ্কা। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, অভিযানে ইরানের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, উপকূলীয় রাডার স্থাপনা, ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন সক্ষমতা এবং ছোট সামরিক নৌযানকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। সেন্টকমের দাবি, এ অভিযানে প্রথমবারের মতো মার্কিন যুদ্ধবিমান, নৌযান, আকাশপথের ড্রোন এবং সমুদ্রপথের ড্রোন একযোগে ব্যবহার করা হয়েছে।
এদিকে, সপ্তাহান্তে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতেও হামলা চালিয়েছে ইরান। তেহরান এসব হামলার দায় স্বীকার করেছে। পাল্টাপাল্টি সামরিক পদক্ষেপের জেরে দুই দেশের মধ্যে চলমান উত্তেজনা আরও গভীর হয়েছে।



