গ্রামীণ ব্যাঙ্কের সুবর্ণ জয়ন্তী উপলক্ষে মহিশাসনে বৃক্ষরোপণ, পরিবেশ রক্ষায় সচেতনতার বার্তা

Spread the news

মোহাম্মদ জনি, শ্রীভূমি।
বরাক তরঙ্গ, ৪ আগস্ট :
গ্রামীণ ব্যাংকের সুবর্ণ জয়ন্তী উপলক্ষে শ্রীভূমি জেলার মহিশাসনের নবারুণ বিদ্যানিকেতনে অনুষ্ঠিত হলো ব্যতিক্রমী বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি ও আলোচনা সভা। গ্রামীণ অর্থনীতির উন্নয়নের পাশাপাশি পরিবেশ সংরক্ষণের বার্তা সমাজের সর্বস্তরের মানুষের কাছে পৌঁছে দিতেই এই উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়। কর্মসূচিতে ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারী, শিক্ষক-শিক্ষিকা, আত্মসহায়ক গোষ্ঠীর সদস্য, সমাজসেবী, শিক্ষাবিদ, ছাত্রছাত্রী এবং স্থানীয় বিশিষ্ট ব্যক্তিরা অংশ নেন।
আসাম গ্রামীণ বিকাশ ব্যাঙ্ক অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশন ও আসাম গ্রামীণ বিকাশ ব্যাঙ্ক এমপ্লয়ীজ অ্যাসোসিয়েশনের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত অনুষ্ঠানের শুরুতে নবারুণ বিদ্যানিকেতনে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন নবারুণ সংঘের সাধারণ সম্পাদক জ্যোতিষ রঞ্জন দেবনাথ। স্বাগত ভাষণ দেন ব্যাঙ্ক অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশনের সদস্য জন্মজিৎ দেবনাথ। তিনি বলেন, গ্রামীণ ব্যাংকের পঞ্চাশ বছরের পথচলা শুধু একটি প্রতিষ্ঠানের সাফল্যের ইতিহাস নয়, বরং গ্রামীণ মানুষের আত্মনির্ভরতা ও আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। সেই ঐতিহ্যকে স্মরণ করেই পরিবেশ রক্ষায় বৃক্ষরোপণের মতো সামাজিক কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে।

বক্তারা বলেন, বর্তমান সময়ে জলবায়ু পরিবর্তন, বন উজাড় ও পরিবেশ দূষণের মতো বৈশ্বিক সংকট মোকাবিলায় ব্যাপক বৃক্ষরোপণ অত্যন্ত জরুরি। একটি গাছ শুধু অক্সিজেনের উৎস নয়, বরং জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ, মাটির ক্ষয়রোধ এবং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তাই অর্থনৈতিক উন্নয়নের পাশাপাশি পরিবেশ সংরক্ষণেও সকলের সক্রিয় ভূমিকা থাকা প্রয়োজন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন নবারুণ সংঘের সদস্য জগদীশ দাস, জহর দত্ত, প্রাণেশ মহন্ত, নবারুণ বিদ্যানিকেতনের প্রধান শিক্ষক রাজেশ দাস, সহকারী প্রধান শিক্ষক শিবু দত্তসহ ব্যাংকের কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা। এছাড়াও বিভিন্ন আত্মসহায়ক গোষ্ঠীর সদস্য, ব্যাংক মিত্র সোনালী নাথ এবং এলাকার বহু বাসিন্দা অংশগ্রহণ করেন।

অনুষ্ঠানের শেষপর্বে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে ফলজ, বনজ ও ঔষধি গাছের চারা রোপণ করা হয়। উপস্থিত সকলে রোপণ করা প্রতিটি গাছের নিয়মিত পরিচর্যা ও সংরক্ষণের অঙ্গীকারও গ্রহণ করেন। বক্তাদের মতে, গ্রামীণ ব্যাংকের এই উদ্যোগ শুধু সামাজিক দায়বদ্ধতার পরিচয়ই নয়, পরিবেশ রক্ষায় জনসচেতনতা বৃদ্ধির ক্ষেত্রেও একটি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *