পিএনসি, শিলচর।
বরাক তরঙ্গ, ৪ আগস্ট : আসাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সংস্কৃত বিভাগ ও ভারতীয় জ্ঞান পরম্পরা কেন্দ্রের (Indian Knowledge Systems Centre) যৌথ উদ্যোগে এবং Mentor Ocean™-এর প্রতিষ্ঠাতা ড. নীল এম গৌতমের সহযোগিতায় মঙ্গলবার বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বপ্না দেবী স্মৃতি ভবনে “মহামৃত্যুঞ্জয় বিদ্যার মাধ্যমে যুব নেতৃত্ব, মানসিক স্বাস্থ্য ও মানসিক সক্ষমতার বিকাশ” শীর্ষক এক আন্তঃবিষয়ক একদিনের আলোচনা ও প্রশিক্ষণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন আসাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক রাজীবমোহন পন্থ। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সংস্কৃত বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক শান্তি পোখরেল, ভারতীয় জ্ঞান পরম্পরা কেন্দ্রের পরিচালক অধ্যাপক গঙ্গাভূষণ মোলাঙ্কল, কাছাড় ক্যান্সার হাসপাতাল ও গবেষণা কেন্দ্রের পরিচালক পদ্মশ্রী ড. রবি কণ্ণন আর., শিলচর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের মনোরোগবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান ড. প্রসেনজিৎ ঘোষ, বিশ্ববিদ্যালয় স্বাস্থ্যকেন্দ্রের মেডিক্যাল অফিসার ড. দর্শনা পাটোয়া এবং Mentor Ocean™-এর প্রতিষ্ঠাতা ড. নীল এম. গৌতম। এছাড়াও বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক, গবেষক ও শিক্ষার্থীরা অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন।
বৈদিক মন্ত্রোচ্চারণ ও প্রদীপ প্রজ্জ্বলনের মাধ্যমে কর্মসূচির সূচনা হয়। পরে অতিথিদের উত্তরীয় ও তিলক পরিয়ে সংবর্ধনা জানানো হয়। স্বাগত বক্তব্য রাখেন অধ্যাপক শান্তি পোখরেল। কর্মসূচির উদ্দেশ্য তুলে ধরেন ড. নীল এম. গৌতম এবং ভারতীয় জ্ঞান-পরম্পরার প্রাসঙ্গিকতা নিয়ে বক্তব্য রাখেন অধ্যাপক গঙ্গাভূষণ মোলাঙ্কল।
উপাচার্য অধ্যাপক রাজীবমোহন পন্থ বলেন, বর্তমান প্রতিযোগিতামূলক যুগে যুবসমাজের জন্য মানসিক দৃঢ়তা, আত্মবিশ্বাস, আত্মসচেতনতা, একাগ্রতা ও ইতিবাচক চিন্তাভাবনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাঁর মতে, ভারতীয় জ্ঞান-পরম্পরা ও আধুনিক বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গির সমন্বয় শিক্ষার্থীদের সামগ্রিক বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
প্রথম কারিগরি অধিবেশনে পদ্মশ্রী ও র্যামন ম্যাগসেসে পুরস্কারপ্রাপ্ত ডাঃ রবি কান্নান ‘The Power of Purpose: Building Inner Strength and Resilience for Life’s Challenges’ শীর্ষক বক্তৃতায় জীবনের প্রতিকূলতা মোকাবিলায় মানসিক শক্তি ও উদ্দেশ্যবোধের গুরুত্ব তুলে ধরেন। দ্বিতীয় অধিবেশনে ড. প্রসেনজিৎ ঘোষ শিক্ষার্থীদের মানসিক চাপ, উদ্বেগ, আবেগ নিয়ন্ত্রণ এবং মানসিক সুস্থতা নিয়ে আলোচনা করেন। তৃতীয় অধিবেশনে ড. দর্শনা পাটোয়া সুস্থ জীবনযাপনের অভ্যাসের মাধ্যমে মানসিক সুস্থতা বজায় রাখার বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন।
পরবর্তীতে ড. নীল এম গৌতম মহামৃত্যুঞ্জয় বিদ্যার ধারণা, ভৃগুগিরি সম্প্রদায়ের ঐতিহ্য এবং এই বিদ্যার মাধ্যমে নেতৃত্বের বিকাশ, মানসিক সক্ষমতা বৃদ্ধি ও আত্মোন্নয়নের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বিশদ আলোচনা করেন।
প্রায় ৪০ জন শিক্ষার্থী এই কর্মসূচিতে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন। ধন্যবাদজ্ঞাপনের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি হয়।
আয়োজকদের দাবি, ভারতীয় জ্ঞান-পরম্পরা ও সমকালীন বৈজ্ঞানিক গবেষণার মধ্যে সেতুবন্ধন গড়ে তোলার লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তাঁদের মতে, মহামৃত্যুঞ্জয় বিদ্যা™-কে আধুনিক বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গির সঙ্গে যুক্ত করে কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে এ ধরনের আন্তঃবিষয়ক একাডেমিক কর্মসূচি এই প্রথম সফলভাবে আয়োজিত হয়েছে, যা ভবিষ্যতে মানসিক স্বাস্থ্য, নেতৃত্ব বিকাশ, মানসিক সক্ষমতা এবং চেতনা বিষয়ক গবেষণায় নতুন দিগন্ত উন্মোচন করতে পারে।



