দীপ দেব, শিলচর।
বরাক তরঙ্গ, ৭ সেপ্টেম্বর : ভারতরত্ন ও সুধাকণ্ঠ ড. ভূপেন হাজরিকার ১০০তম জন্মবার্ষিকী উদযাপনের অঙ্গ হিসেবে আয়োজিত ‘সাউথ আসাম ভূপেন্দ্র গ্র্যান্ড সঙ্গীত কম্পিটিশন’-এর চূড়ান্ত পর্ব সোমবার শিলচরের সঙ্গীত বিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয়। মঙ্গলবার বিকেল ৫টায় বঙ্গভবনে আয়োজিত বিশেষ অনুষ্ঠানে বিজয়ীদের নাম ঘোষণা ও পুরস্কার বিতরণ করা হবে।
অসম সরকারের সাংস্কৃতিক বিষয়ক দফতরের তত্ত্বাবধানে এই প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। মেরাকি অ্যাসোসিয়েটস ছিল আয়োজক সহযোগী। NERIM এবং ব্যতিক্রম গ্রুপ এই অনুষ্ঠানে সহযোগিতা করে। সোমবার সন্ধ্যায় এক হোটেলে আয়োজিত সাংবাদিক সম্মেলনে ব্যতিক্রম গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা-সভাপতি ড. সৌমেন ভারতীয়া জানান, প্রতিযোগিতার বিভিন্ন পর্যায়ে এক হাজারেরও বেশি প্রতিযোগী অংশগ্রহণ করেন। মঙ্গলবারের অনুষ্ঠানে বিপুল সংখ্যক মানুষ অংশ নেবেন বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
ড. ভারতীয়া আরও জানান, মঙ্গলবারের অনুষ্ঠানে দোহার ব্যান্ডকে সম্মানিত করা হবে। পাশাপাছি আটজন শিল্পী লাইভ পোর্ট্রেট আঁকবেন। শামিক চন্দ্রের নেতৃত্বে নিরন্তরের নৃত্যশিল্পীরাও সাংস্কৃতিক পরিবেশন করবেন। মন্ত্রী কৃষ্ণেন্দু পালকে অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। এছাড়াও বিধায়ক, সাংসদ এবং অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।
সাংবাদিক সম্মেলনে প্রতিযোগিতার বিচারক এবং বিশিষ্ট গায়িকা মনীষা হাজারিকা বলেন, ভূপেন হাজারিকার জন্মশতবর্ষ উদযাপনের অংশ হতে পেরে তিনি অত্যন্ত আনন্দিত। তিনি বলেন, ভূপেন হাজারিকা সবসময় অসমকে বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরতে চেয়েছিলেন এবং অসমের সংস্কৃতি, ইতিহাস ও পরিচয়কে বিশ্ব দরবারে প্রতিষ্ঠিত করার স্বপ্ন দেখেছিলেন।
মনীষা হাজরিকা আরও বলেন, এবারের প্রতিযোগিতায় বরাক উপত্যকাকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এই উদ্যোগের মাধ্যমে অসমের বিভিন্ন প্রান্তে যেতে পেরে তিনি আনন্দিত বলেও জানান। তিনি ভূপেন হাজারিকার সঙ্গীত ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়ার পাশাপাশি এই প্রতিযোগিতা আয়োজনের জন্য ব্যতিক্রম গ্রুপ ও ড. সৌমেন ভারতীয়ার প্রশংসা করেন।
প্রতিযোগিতার সমন্বয়কারী ভাস্কর দাস বলেন, এই অনুষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত হতে পেরে তিনি সম্মানিত বোধ করছেন। ভূপেন হাজারিকার গান গাইতে তিনি ভালোবাসেন এবং জন্মশতবর্ষ উদযাপনের অংশ হওয়ার সুযোগ দেওয়ার জন্য আয়োজকদের ধন্যবাদ জানান।
সাংবাদিক সম্মেলনে মেরাকি অ্যাসোসিয়েটসের প্রতিনিধি সীমা শর্মা এবং গৌহাটি হাইকোর্টের আইনজীবী সোহেলি শীল সরকারও উপস্থিত ছিলেন। এছাড়াও গীতাঞ্জলি কাকতি, জয়দীপ চক্রবর্তী, অঞ্জন পাল-সহ আরও অনেকে উপস্থিত ছিলেন।



