বরাক তরঙ্গ, ৭ সেপ্টেম্বর : স্ত্রীকে নৃশংসভাবে হত্যার পর ফ্রিজে মাথা ঢুকিয়ে রাখার অভিযোগ। পুলিশি জেরায় একের পর এক বিস্ফোরক স্বীকারোক্তি দিয়েছে রামানুজ গোস্বামী। স্ত্রী রিয়াকে নৃশংসভাবে হত্যার পর তাঁর মাথা ফ্রিজে ঢুকিয়ে রাখার অভিযোগ উঠেছে রামানুজের বিরুদ্ধে।
পুলিশের কাছে রামানুজ জানিয়েছে, ২০২১ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত বেশ কয়েকবার রিহ্যাবে গিয়েছিল সে। পানিখাইতির একটি রিহ্যাবে থাকার সময় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রিয়ার সঙ্গে তার পরিচয় হয়। এমনকি পানিখাইতির ওই রিহ্যাবে রামানুজের সঙ্গে দেখা করতেও গিয়েছিল রিয়া।
পুলিশি জেরায় রামানুজের দেওয়া বয়ান অনুযায়ী, ২০২৫ সালেই রিয়ার সঙ্গে তার পরিচয় হয়। শুক্রবার দু’জনে বাইরে ঘুরতে গিয়েছিল। পরে ফ্ল্যাটে ফিরে দু’জনের মধ্যে তীব্র ঝগড়া শুরু হয়। অভিযোগ, শুক্রবার রাতেই রিয়াকে হত্যা করে রামানুজ। প্রচণ্ড রাগের বশে হিতাহিত জ্ঞান হারিয়ে সে রিয়াকে নৃশংসভাবে হত্যা করে বলে পুলিশের কাছে দাবি করেছে।
স্ত্রীকে হত্যার পর পুরো রাত রিয়ার মৃতদেহের পাশেই কাটিয়েছিল রামানুজ। শনিবার সকাল ১১টার দিকে একবার ফ্ল্যাট থেকে বের হয় সে। রাজধানী মসজিদের সামনে নিজের গাড়ি রেখে অতিরিক্ত পরিমাণে বিয়ার পান করে। এরপর প্রায় বিকেল ৪টের দিকে ফের ফ্ল্যাটে ফিরে আসে রামানুজ। মৃতদেহের সামনেই রান্না করে খাওয়ার পাশাপাশি মদ্যপানও করে বলে পুলিশি জেরায় জানিয়েছে সে।

সন্ধ্যায় ফের ফ্ল্যাট থেকে বেরিয়ে মদ্যপান করে রামানুজ। এরপরই আত্মসমর্পণের সিদ্ধান্ত নেয়। তবে শনিবার আত্মসমর্পণ না করে রবিবার রাতে পুলিশের কাছে যায় সে। রবিবার রাতে দিসপুর থানায় আত্মসমর্পণ করে রামানুজ।
অভিযোগ অনুযায়ী, রামানুজের সামনেই রিয়া প্রায়ই তাঁর প্রাক্তন প্রেমিকের সঙ্গে ফোনে কথা বলতেন। বিষয়টি দেখে স্ত্রীকে সন্দেহের চোখে দেখতে শুরু করেছিল রামানুজ।
পুলিশের কাছে রামানুজ আরও দাবি করেছে, আত্মসমর্পণের আগে সে নিজেকে শেষ করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। তবে পরবর্তীতে সেই সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করার সিদ্ধান্ত নেয়।



