বরাক তরঙ্গ, ৭ সেপ্টেম্বর : সোমবার দিসপুরের লোকসেবা ভবনে অনুষ্ঠিত রাজ্য মন্ত্রিসভার বৈঠকে আগামী পাঁচ বছরে দুই লাখ চাকরি প্রদান, সরকারি কর্মচারীদের পদোন্নতি, প্রাক্তন সেনাকর্মীদের বয়সসীমা বৃদ্ধি এবং শিক্ষার্থী ও ক্রীড়াক্ষেত্রের জন্য একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।

মন্ত্রিসভার বৈঠকের পর মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা জানান, আগামী পাঁচ বছরে দুই লাখ নিয়োগের লক্ষ্যে দ্রুত সরকারি কর্মচারীদের পদোন্নতির ব্যবস্থা করা হবে। এর ফলে বিভিন্ন পদ শূন্য হবে এবং সেই শূন্যপদে নতুন নিয়োগের সুযোগ তৈরি হবে।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, সচিবালয়ে জুনিয়র কম্পিউটার অপারেটরদের পদোন্নতির ক্ষেত্রে আগে চার বছর চাকরি করার নিয়ম ছিল। এখন থেকে তিন বছর চাকরি করলেই পদোন্নতির সুযোগ দেওয়া হবে। এর ফলে প্রায় ৩০০টি পদ শূন্য হবে এবং একই সঙ্গে ৩০০ জন কর্মচারী পদোন্নতি পাবেন। অন্যান্য বিভাগেও পদোন্নতির ক্ষেত্রে একই ধরনের নির্দেশ দেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
এদিকে, সামরিক বাহিনীতে কর্মরত অসমের যুবক-যুবতীদের জন্যও মন্ত্রিসভায় গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী জানান, সেনাকর্মীদের ৪২ বছর বয়সে অবসর নিতে হয়। তাঁদের জন্য ইতিমধ্যে ADRE-তে দুই শতাংশ আসন সংরক্ষণের ব্যবস্থা রয়েছে। এবার প্রাক্তন সেনাকর্মীদের ADRE পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সর্বোচ্চ বয়সসীমা ৪২ থেকে বাড়িয়ে ৪৫ বছর করা হয়েছে।
ক্রীড়াক্ষেত্রেও বিশেষ উদ্যোগের কথা ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, প্রতিবছর পর্যায়ক্রমে রাজ্যে ‘খেল মহারণ’ অথবা ‘সাংস্কৃতিক মহাসংগ্রাম’ অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। এ বছর ১ নভেম্বর থেকে রাজ্যজুড়ে ‘খেল মহারণ’ শুরু হবে। আগামী ২০২৭ সালের ১৮ থেকে ২৩ জানুয়ারি গুয়াহাটিতে রাজ্যস্তরের ফাইনাল ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে।
এর পাশাপাশি এবার থেকে ১২ বছরের কম বয়সি শিশুদের নিয়ে ‘শিশু খেল মহারণ’ আয়োজন করা হবে। এর মূল উদ্দেশ্য প্রতিভাবান শিশু খেলোয়াড়দের চিহ্নিত করা। এই কর্মসূচির মাধ্যমে ৩০০ জন প্রতিভাবান শিশু খেলোয়াড়কে বাছাই করা হবে। তাঁদের বৃত্তি দেওয়ার পাশাপাশি উন্নত প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থাও করা হবে।
এদিকে, রাজ্যের সরকারি দফতরগুলিতে সক্রিয় দালালচক্র ও মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য বন্ধ করতেও বিশেষ পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে মন্ত্রিসভার বৈঠকের পর সাংবাদিকদের জানান মুখ্যমন্ত্রী।



