ওডিশার কঙ্কালকাণ্ড: দু’বার ম্যানেজারকে অনুরোধ করেও মেলেনি সাহায্য, তদন্তে মিলল ব্যাঙ্কের গাফিলতি

Spread the news

১ মে : বোন মারা গিয়েছেন। কিন্তু তাঁর সঞ্চিত টাকা তুলতে বার বার ব্যাঙ্কে গেলেও খালি হাতেই ফিরতে হয়েছে বলে অভিযোগ ওডিশার কেওনঝরের জিতু মুন্ডার। শেষে বোনের মৃত্যুর প্রমাণ দিতে কবর খুঁড়ে কঙ্কাল নিয়ে হাজির হন তিনি। এই ঘটনার প্রাথমিক তদন্তে ব্যাঙ্ক কর্মীদের গাফিলতির প্রমাণ মিলেছে বলে জানালেন নর্দার্ন ডিভিশনের রেভিনিউ ডিভিশনাল কমিশনার সংগ্রাম কেশরী মহাপাত্র। তিনি বলেন, ‘মনে হচ্ছে ভুলটা তাঁদেরই।’

ঘটনার শুরু থেকেই ব্যাঙ্ক কর্মীদের বিরুদ্ধে অসহযোগিতার অভিযোগ করেছিলেন জিতু। তাঁর দাবি ছিল, ওডিশা গ্রামীণ ব্যাঙ্কের কর্মীরা তাঁকে জানিয়েছিলেন, বোন না এলে ১৯,৩০০ টাকা দেওয়া যাবে না। এর পরেই তিনি প্রমাণ হিসেবে বোনের কঙ্কাল নিয়ে ব্যাঙ্কে যান। ইতিমধ্যেই গোটা ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে ওডিশা সরকার। খতিয়ে দেখা হচ্ছে সিসিটিভি ফুটেজ।

এই প্রসঙ্গে নর্দার্ন ডিভিশনের রেভিনিউ ডিভিশনাল কমিশনার সংগ্রাম কেশরী মহাপাত্র বলেন, ‘জেলাশাসক আর আমি এক ঘণ্টা ধরে ব্যাঙ্কের সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখেছি। তাতে ব্যাঙ্ক কর্তাদের গাফিলতির ইঙ্গিত মিলেছে।’ ফুটেজে অবশ্য অডিও নেই। জিতুর সঙ্গে ব্যাঙ্ক কর্মীদের কী কথা হয়েছে, তা পাওয়া যায়নি। সংগ্রামের কথায়, ‘অডিও ফুটেজ না থাকায় দুই পক্ষের মধ্যে ঠিক কী কথাবার্তা চলছিল আমরা বুঝতে পারিনি। কিন্তু ব্যাঙ্ক কর্মীদের বডি ল্যাঙ্গুয়েজ দেখে মনে হয়েছে, ভুলটা ওদেরই।’

জিতু আগে কোনও দিন ব্যাঙ্কে যাননি বলে দাবি করেছিলেন কর্মীরা। বোনের মৃত্যুর শংসাপত্রও তিনি দেখাতে পারেননি। তবে রেভিনিউ ডিভিশনাল কমিশনার সংগ্রাম জানালেন, জিতু আর তাঁর বোন কালরা মুন্ডাকে ব্যাঙ্ক কর্মীরা আগে থেকেই চিনতেন। গত বছরের ডিসেম্বরে তাঁর ব্যাঙ্ক থেকে ৫০০ টাকাও তুলেছিলেন। ঘটনার দিন জিতু ব্যাঙ্কে প্রায় আধ ঘণ্টা ছিলেন বলে তদন্তে উঠে এসেছে। শুধু তাই নয়, ম্যানেজারের সঙ্গেও দু’বার কথা বলেছিলেন।

এই বিষয়টা স্বীকার করে নেন সংগ্রামও। তিনি বলেন, ‘ব্যাঙ্ক কর্তারা নিজেরাই স্বীকার করেছে যে তাঁরা দু’জনকে ভাইবোন হিসেবে চিনতেন। তাঁদের আরও ভদ্র আচরণ করা উচিত ছিল।’ এর পরেই তিনি বলেন, ‘ব্যাঙ্ক কর্তাদের গাফিলতি রয়েছে। আমি এই বিষয়টা রিপোর্টে উল্লেখ করব।’ তবে জিতু নেশাগ্রস্ত ছিলেন বলে দাবি করেছেন ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষ। অভিযোগ, তিনি কোনও সেটেলমেন্ট নিয়মও মানতে চাননি। তাই এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল।

কঙ্কালকাণ্ডে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে ওডিশার রাজ্য রাজনীতি। ইতিমধ্যেই কংগ্রেস এবং বিরোধী বিজেডি দলের প্রতিনিধিরা দেওয়ানালি গ্রামে গিয়ে জিতুর সঙ্গে দেখা করে এসেছেন। প্রয়োজনীয় ক্ষতিপূরণ এবং নিরপেক্ষ তদন্তের দাবিও তুলেছেন তাঁরা। অন্য দিকে, জিতুকে আর্থিক সাহায্য পাঠিয়ে রাজ্য সরকার। বোনের সঞ্চিত টাকাও তাঁর হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *