১২ দফা দাবি সামনে রেখে শিলচরে মে দিবসে সমাবেশ ও মিছিল যৌথ মঞ্চের

Spread the news

আশু চৌধুরী, শিলচর।
বরাক তরঙ্গ, ১ মে : ১২ দফা দাবি সামনে রেখে শিলচরে আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস পালন করল যৌথ মঞ্চ। শুক্রবার প্রতিকূল আবহাওয়া উপেক্ষা করেই সিটু, এআইইউটিইউসি, এআইসিসিটিইউ, এআইটিইউসি, টিইউসিসি ন্যাশনাল, এআইকেএস, টিইউসিসি কাছাড়, ইডাব্লিউটিসিসি, ফেডারেশন ও সামাজিক সংগঠনের সমন্বয়ে গঠিত শ্রমিক-কর্মচারী যৌথ মঞ্চ নানা কর্মসূচির মাধ্যমে দিনটি উদযাপন করে।

এদিন শিলচরে শহিদ ক্ষুদিরাম মূর্তির সামনে রক্ত পতাকা উত্তোলন করেন হায়দার হোসেন চৌধুরী। শহিদ বেদীতে মাল্যদান করেন দেবদত্ত বিশ্বাস। অনুষ্ঠানে শ্রমিক শ্রেণির স্বার্থসংশ্লিষ্ট প্রস্তাব পেশ করেন সুপ্রিয় ভট্টাচার্য। প্রস্তাবের সমর্থনে বক্তব্য রাখেন এআইইউটিইউসি-র সুব্রত চন্দ্র নাথ, এআইসিসিটিইউ-র হায়দর হোসেন চৌধুরী, এআইটিইউসিএ-র লোকনাথ দেবরায়, টিইউসিসি ন্যাশনালের মিহির নন্দী এআইকেএসের পক্ষে সুভাষ দেব, টিইউসিসি কাছাড়ের পক্ষে দেবদত্ত বিশ্বাস এবং ইডাব্লিউটিসিসির রঞ্জন দাস।

বক্তারা বক্তব্যে বিশ্বের পরিস্থিতি তুলে ধরে উদ্বেগ প্রকাশ করে শ্রমিক-কর্মচারী যৌথ মঞ্চ জানিয়েছে, অর্থনৈতিক সংকট ও সম্পদের একচেটিয়া কেন্দ্রীকরণ বিশ্বজুড়ে বৈষম্য বাড়াচ্ছে। সাম্রাজ্যবাদী আগ্রাসন ও যুদ্ধ পরিস্থিতির জেরে সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে নারী ও শিশুরা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। ইরান ও গাজা প্রসঙ্গ উল্লেখ করে সংগঠনের দাবি, এই অস্থিরতার প্রভাব পড়ছে বিশ্ব শ্রমজীবী মানুষের ওপর, যারা ক্রমেই সংকটে পড়ছেন।
ভারতের ক্ষেত্রে সংগঠনের অভিযোগ, কেন্দ্রীয় সরকার জোটনিরপেক্ষ নীতি থেকে সরে এসে আন্তর্জাতিক শক্তির সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বাড়াচ্ছে এবং গণতান্ত্রিক কাঠামো দুর্বল করছে। পাশাপাশি ২৯টি শ্রম আইনকে ৪টি শ্রম কোডে রূপান্তরের ফলে শ্রমিকদের অধিকার খর্ব হয়েছে বলে দাবি করা হয়।

যৌথ মঞ্চের মতে, কর্মঘণ্টা বৃদ্ধি, ন্যূনতম মজুরি না বাড়ানো এবং মূল্যবৃদ্ধি শ্রমজীবী মানুষের জীবনকে কঠিন করে তুলেছে। আসামে চা শ্রমিকদের মজুরি বৈষম্য ও অঙ্গনওয়াড়ি-আশা কর্মীদের স্বল্প ভাতা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। সভায় সম্প্রতি প্রয়াত শ্রমিক নেতা রফিক আহমদের প্রতিও শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করা হয়।

পরে দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার মধ্যেও শতাধিক শ্রমিক-কর্মচারীর অংশগ্রহণে একটি মিছিল শহরের বিভিন্ন পথ পরিক্রমা করে নাজিরপট্টি গোলদিঘি মলের সামনে গিয়ে শেষ হয়। সেখানে উপস্থিত জনগণের সামনে শ্রমিক নেতারা বক্তব্য রেখে সমাপ্তি ঘটান।

মে দিবসে যৌথ মঞ্চের পক্ষ থেকে ১২ দফা দাবি তুলে ধরা হয়। দাবিগুলির মধ্যে উল্লেখযোগ্য— লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধি রোধ, প্রণীত শ্রম কোড বাতিল করে ২৯টি শ্রম আইন পুনর্বহাল, শ্রমিকদের ন্যূনতম মাসিক মজুরি ২৬ হাজার টাকা নির্ধারণ, সরকারি শূন্যপদে স্থায়ী নিয়োগ ও বেকার সমস্যার সমাধান। এছাড়াও প্রকল্পভিত্তিক কর্মীদের সরকারি কর্মচারীর স্বীকৃতি প্রদান, নির্মাণ শ্রমিকসহ অসংগঠিত শ্রমিকদের সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করা, চা শ্রমিকদের দৈনিক ন্যূনতম মজুরি ৬৬০ টাকা নির্ধারণ ও জমির পাট্টা প্রদান, নতুন পেনশন নীতি বাতিল করে পুরনো পেনশন ব্যবস্থা চালু রাখা, কৃষকদের ফসলের ন্যূনতম সহায়ক মূল্যের আইনি নিশ্চয়তা এবং রাষ্ট্রায়ত্ত শিল্পের বেসরকারিকরণ বন্ধের দাবি জানানো হয়। পাশাপাশি শ্রমজীবী মানুষের ঐক্য নষ্টকারী সাম্প্রদায়িক ও উগ্র জাতীয়তাবাদী শক্তির বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের আহ্বান জানানো হয়। একই সঙ্গে ‘SIR’-এর নামে প্রকৃত ভারতীয়দের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার অভিযোগ তুলে তা বন্ধের দাবিও জানায় যৌথ মঞ্চ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *