উখরুলে হামলার জবাবে এনএসসিএন-জিপিআরএনের অভিযান, ৫ কেএনএ ক্যাডার নিহত দাবি

Spread the news

বরাক তরঙ্গ, ২৪ এপ্রিল : মণিপুরের উখরুল জেলায় কুকি জঙ্গিদের সাম্প্রতিক হামলার পর পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে অভিযান চালানোর দাবি করেছে এনএসসিএন/জিপিআরএন। সংগঠনের নাগা আর্মির সাউথ ইস্ট কমান্ডের সুপ্রিম কমান্ডার মেজর জেনারেল স্যার আলেং-এর নেতৃত্বে শুক্রবার সকালে এই অভিযান পরিচালিত হয়।

সংগঠন সূত্রে জানানো হয়েছে, গত ১৮ এপ্রিল টিএম কাসোম গ্রামের কাছে সংঘটিত হামলার জবাব হিসেবেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ওই হামলাকে ‘নৃশংস’ বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
এনএসসিএন/জিপিআরএন দাবি করেছে, অভিযানে কুকি ন্যাশনাল আর্মি (কেএনএ)-এর বি-৫ ইউনিটের পাঁচজন ক্যাডার নিহত হয়েছে। ট্রোংলাওবি এলাকায় এই ঘটনা ঘটে বলে জানানো হয়েছে।

সংগঠনটির মতে, এই অভিযান পূর্ববর্তী হামলার যথাযথ প্রতিক্রিয়া এবং এটি একটি ন্যায়সঙ্গত পদক্ষেপ। তবে এই দাবির স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

এ দিকে, উখরুলের ঘটনার প্রেক্ষিতে নাগা জনগণের উদ্দেশে বার্তা জানায়, এনএসসিএন/জিপিআরএন-র নাগা আর্মির সাউথ ইস্ট কমান্ডের সুপ্রিম কমান্ডার মেজর জেনারেল স্যার আলেং-এর নেতৃত্বে আজ ২৪ এপ্রিল ২০২৬ সকালে একটি দৃঢ় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। উখরুল জেলার টি.এম. কাসোম গ্রামের কাছে গত ১৮ এপ্রিল কুকি জঙ্গিদের চালানো ‘নৃশংস ও কাপুরুষোচিত’ হামলার পরিপ্রেক্ষিতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়।

বিবৃতিতে দাবি করা হয়েছে, বিভিন্ন গ্রাম—সিনাকেইথেই, থোইয়ে, শারকাফুংসহ লিতান সংলগ্ন এলাকায় সাধারণ মানুষের ওপর হামলা ও আতঙ্ক সৃষ্টি করা কুকি জঙ্গিদের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে কয়েকজনকে আটক করা হয়েছে।

এছাড়াও বলা হয়েছে, কামজং জেলার আন্তর্জাতিক সীমান্তের কাছে ২০ জনেরও বেশি সশস্ত্র কুকি জঙ্গি অত্যাধুনিক অস্ত্র নিয়ে অবস্থান করছিল, যাদের লক্ষ্য ছিল সাধারণ মানুষকে আক্রমণ করা এবং গ্রামগুলিকে ক্ষতিগ্রস্ত করা।

বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়, এ ধরনের ধারাবাহিক আগ্রাসনের মুখে নীরব থাকা সম্ভব নয়। নাগা জনগণের নিরাপত্তা, মর্যাদা ও অধিকার রক্ষায় প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে। সাউথ ইস্ট কমান্ড তাদের নেতৃত্বে জনগণকে সুরক্ষা দেওয়া এবং হুমকির মোকাবিলায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলে দাবি করেছে।

এই পরিস্থিতিতে নাগা জনগণকে ঐক্যবদ্ধ, সতর্ক ও দৃঢ় থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে। পাশাপাশি নেতৃত্বের জন্য প্রার্থনা করার কথাও বলা হয়েছে।

বিবৃতিতে শেষাংশে বলা হয়, তাদের আন্দোলন ন্যায়, মর্যাদা এবং নিজস্ব ভূমি ও জনগণের সুরক্ষার ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে। শান্তি ও ন্যায়বিচারের লক্ষ্যে ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানানো হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *