১৭ জুন : বিশ্বকাপের গ্রুপ ‘আই’-এর গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে দাপুটে জয় তুলে নিয়েছে নরওয়ে। বোস্টনের স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে ইরাককে ৪-১ গোলে পরাজিত করে পূর্ণ তিন পয়েন্ট অর্জন করেছে ইউরোপের দলটি। নরওয়ের হয়ে জোড়া গোল করেন তারকা স্ট্রাইকার আর্লিং হালান্ড। এছাড়া একটি গোল করেন লিও স্কিরি অস্টিগার্ড। অন্যদিকে ইরাকের আয়মান হোসেন একটি গোল করার পাশাপাশি একটি আত্মঘাতী গোলও করেন।
ম্যাচের শুরু থেকেই আধিপত্য বিস্তার করে নরওয়ে। অধিনায়ক মার্টিন ওডেগার্ড ও আর্লিং হালান্ডের সমন্বিত আক্রমণে বারবার চাপে পড়ে ইরাকের রক্ষণভাগ। ম্যাচের ২৯ মিনিটে নরওয়েকে এগিয়ে দেন হালান্ড। বাঁ দিক থেকে ডেভিড মোলার উলফের দুর্দান্ত ক্রসে পা ছুঁইয়ে বল জালে পাঠান ম্যানচেস্টার সিটির এই তারকা। বিশ্বকাপের অভিষেক ম্যাচেই গোল করে দলকে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে নেন তিনি।
তবে ৩৯ মিনিটে সমতা ফেরায় ইরাক। আয়মান হোসেন গোল করে ম্যাচে ১-১ সমতা আনেন। কিন্তু সেই সমতা স্থায়ী হয়নি বেশিক্ষণ। চার মিনিট পরই প্রতিপক্ষ গোলরক্ষকের ভুলের সুযোগ কাজে লাগিয়ে নিজের দ্বিতীয় গোল করেন হালান্ড। গোলরক্ষক হাসানের পাসে চাপ সৃষ্টি করে বল দখলে নিয়ে সহজেই জালে পাঠান তিনি।
প্রথমার্ধের শেষদিকে সমতায় ফেরার দুটি ভালো সুযোগ পেয়েছিল ইরাক। তবে একবার বল পোস্টের বাইরে চলে যায় এবং আরেকবার নরওয়ের গোলরক্ষক নাইল্যান্ড দুর্দান্ত সেভ করে দলকে রক্ষা করেন।
দ্বিতীয়ার্ধে ইরাক কয়েকটি সুযোগ তৈরি করলেও ভাগ্য সহায় হয়নি। ৫৩তম মিনিটে আয়মান হোসেনের হেড অল্পের জন্য পোস্টের বাইরে দিয়ে চলে যায়। ৬৩তম মিনিটেও একটি সম্ভাবনাময় সুযোগ নষ্ট করে মধ্যপ্রাচ্যের দলটি। এরপর ৭৬তম মিনিটে ব্যবধান আরও বাড়ায় নরওয়ে। মার্টিন ওডেগার্ডের নেওয়া কর্নার থেকে হেডে গোল করেন লিও অস্টিগার্ড। মার্কিংহীন অবস্থায় বলের দিক পরিবর্তন করে জালে পাঠিয়ে স্কোরলাইন ৩-১ করেন তিনি। ম্যাচে হ্যাটট্রিকের সুযোগও পেয়েছিলেন হালান্ড। ইরাকের ডিফেন্ডারের ভুল পাস থেকে বল কেড়ে নিয়ে গোলের উদ্দেশে শট নিলেও গোলরক্ষক হাসান অসাধারণ সেভ করে তাকে বঞ্চিত করেন।
তবে যোগ করা সময়ের সপ্তম মিনিটে আরও একবার জালে বল জড়ায় নরওয়ে। বক্সের মধ্যে জটলার সময় আয়মান হোসেনের গায়ে লেগে বল নিজেদের জালে ঢুকে গেলে আত্মঘাতী গোলের মাধ্যমে ব্যবধান দাঁড়ায় ৪-১। শেষ পর্যন্ত ৪-১ গোলের বড় জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে নরওয়ে, আর জোড়া গোল করে ম্যাচসেরা পারফরম্যান্স উপহার দেন আর্লিং হালান্ড।



