বরাক তরঙ্গ, ১৯ জুন : শিলঙে উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলির উন্নয়নে বহিরাগত সহায়তা প্রকল্প (এক্সটার্নাল এইড প্রজেক্ট-ইএপি) ব্যবহারের বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন-এর উপস্থিতিতে মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা সহ উত্তর-পূর্বাঞ্চলের বিভিন্ন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে আঞ্চলিক উন্নয়নের নানা দিক নিয়ে মতবিনিময় করা হয়।
বৈঠকে জানানো হয়, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি-র নেতৃত্বে অসম ও সমগ্র উত্তর-পূর্বাঞ্চলকে দেশের উন্নয়নের অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। যোগাযোগ ব্যবস্থার আধুনিকীকরণ, বিনিয়োগ বৃদ্ধি, শান্তি প্রতিষ্ঠা এবং অর্থনৈতিক অগ্রগতির মাধ্যমে এই অঞ্চলের উন্নয়নে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হয়েছে। এই প্রক্রিয়ায় বহিরাগত সহায়তা প্রকল্পগুলির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। ইতোমধ্যে আসামে সেতু, সড়ক অবকাঠামো, হাসপাতালসহ বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক প্রকল্প ইএপি-র আওতায় বাস্তবায়িত হচ্ছে। আগামী দিনে বহুপাক্ষিক উন্নয়ন সংস্থাগুলির সঙ্গে কৌশলগত অংশীদারিত্ব আরও জোরদার করে অবকাঠামো উন্নয়ন, জনসেবা সম্প্রসারণ এবং টেকসই উন্নয়নের গতি বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

অন্যদিকে, শুক্রবার মেঘালয়ের রি-ভোই জেলায় উত্তর-পূর্ব ভারতের বৃহত্তম জৈব মসলা প্রক্রিয়াকরণ কেন্দ্রের উদ্বোধন করেন কেন্দ্রীয় অর্থ ও কর্পোরেট বিষয়ক মন্ত্রী নির্মলা সীতারামন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কনরাড কে. সাংমা এবং প্রেম সিং তামাং।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে নির্মলা সীতারামন বলেন, কৃষির ভবিষ্যৎ তাদের হাতেই, যারা শুধু উৎপাদনের পরিমাণ বাড়ানোর দিকে নয়, বরং উন্নত মানের, নিরাপদ, পরিবেশবান্ধব এবং সহজে শনাক্তযোগ্য কৃষিপণ্য উৎপাদনের দিকে গুরুত্ব দেন। তিনি উল্লেখ করেন, বিশ্বজুড়ে ক্রমবর্ধমান সংখ্যক ভোক্তা এখন টেকসই পদ্ধতিতে উৎপাদিত এবং সম্পূর্ণভাবে অনুসরণযোগ্য কৃষিপণ্যের প্রতি আগ্রহী। এই প্রেক্ষাপটে মেঘালয়ের প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্য ও পরিবেশগত সুবিধা রাজ্যটিকে একটি বিশেষ অবস্থানে নিয়ে গেছে।
রি-ভোইয়ের উর্বর কৃষি অঞ্চলে উপস্থিত থাকতে পেরে সন্তোষ প্রকাশ করে অর্থমন্ত্রী বলেন, মেঘালয়ের মানুষ বহু আগে থেকেই টেকসই উন্নয়নের নীতিকে নিজেদের জীবনযাত্রার অংশ করে নিয়েছেন। খাসি সমাজের প্রাচীন প্রজ্ঞার উল্লেখ করে তিনি বলেন, মানুষের প্রতিটি কাজেরই দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব রয়েছে। বিশেষ করে কৃষিক্ষেত্রে মাটি, পানি ও চাষাবাদ পদ্ধতি সম্পর্কিত সিদ্ধান্ত ভবিষ্যতের উৎপাদনশীলতা ও স্থিতিশীলতা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।



