নিখোঁজ বিজেপি বুথ সভাপতির ক্ষতবিক্ষত মরদেহ উদ্ধার, পুলিশের গুলিতে আহত অভিযুক্ত

Spread the news

মোহাম্মদ জনি, শ্রীভূমি।
বরাক তরঙ্গ, ১৪ আগস্ট :
বাজারিছড়া থানাধীন ছাগলমোয়া গ্রামের বাসিন্দা, ভারতীয় জনতা পার্টির বুথ সভাপতি তথা সুপরিচিত সমাজসেবী বিকাশ ধর (৫২)-এর রহস্যজনক নিখোঁজের ঘটনায় মর্মান্তিক পরিণতি ঘটেছে। নিখোঁজ হওয়ার প্রায় দু’দিন পর শুক্রবার সকালে লোয়াইরপোয়া জিপির ত্রিপুরা সীমান্তবর্তী যোগীছড়া এলাকার একটি পরিত্যক্ত বাড়ি থেকে তাঁর ক্ষতবিক্ষত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এই ঘটনায় সমগ্র এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ও উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে।

বিশেষ সূত্রে খবর পেয়ে শুক্রবার সকালে বাজারিছড়া থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তদন্ত শুরু করে। কিছুক্ষণের মধ্যেই ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন জেলার পুলিশ সুপার (এসএসপি) লীনা দলে। তাঁর উপস্থিতিতে পুলিশ পরিত্যক্ত বাড়ি থেকে বিকাশ ধরের মরদেহ উদ্ধার করে।

প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, মৃতদেহে একাধিক আঘাতের স্পষ্ট চিহ্ন রয়েছে, যা হত্যাকাণ্ডের আশঙ্কাকে আরও জোরালো করেছে। ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনা করে পুলিশ মরদেহটি কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে এবং পরে ময়নাতদন্তের জন্য শ্রীভূমি জেলা সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়।

পুলিশ ইতিমধ্যেই এই ঘটনায় জড়িত থাকার সন্দেহে একজনকে আটক করেছে। তবে তদন্তের স্বার্থে আটক ব্যক্তির পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার সঙ্গে আরও কয়েকজন জড়িত থাকতে পারে এবং তাদের গ্রেপ্তারে জোরদার তল্লাশি অভিযান চলছে।

উল্লেখ্য, গত বুধবার দুপুরে একটি ফোনকল পাওয়ার পর তড়িঘড়ি মোটরসাইকেল নিয়ে বাড়ি থেকে বেরিয়ে যান বিকাশ ধর। এরপর তিনি আর বাড়ি ফেরেননি। তাঁর মোবাইল ফোনও বন্ধ পাওয়া যায়। পরিবারের সদস্যরা অনেক খোঁজাখুঁজির পর বাজারিছড়া থানায় নিখোঁজ ডায়েরি দায়ের করেন।

ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই বৃহস্পতিবার নিখোঁজ বিজেপি নেতার বাড়িতে ছুটে যান এলাকার বিধায়ক তথা রাজ্যের মন্ত্রী কৃষ্ণেন্দু পাল। তিনি পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দেখা করে সমবেদনা জানান এবং জেলা প্রশাসন ও পুলিশের সঙ্গে আলোচনা করে দ্রুত বিকাশ ধরকে উদ্ধারের দাবি জানান। কিন্তু শেষ পর্যন্ত জীবিত অবস্থায় তাঁকে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়নি।

এদিকে তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে। গ্রেপ্তার হওয়া এক অভিযুক্তকে নিয়ে তদন্ত চলাকালীন সে পুলিশের হেফাজত থেকে পালানোর চেষ্টা করলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ তার পায়ে গুলি চালায়। গুলিবিদ্ধ অভিযুক্তকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে, যেখানে সে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

অন্যদিকে, এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত পলাতক অন্যান্য অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক দল বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে। জেলার শীর্ষ পুলিশ আধিকারিকের সরাসরি তত্ত্বাবধানে তদন্ত এগিয়ে চলায় খুব শিগগিরই পুরো ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

বহুল পরিচিত, সদালাপী ও পরোপকারী হিসেবে এলাকায় পরিচিত বিকাশ ধরের নৃশংস হত্যাকাণ্ডে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। একই সঙ্গে ঘটনায় ক্ষোভে ফুঁসছে স্থানীয় বাসিন্দারা। দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *