১৮ মে : আন্তর্জাতিক কূটনীতির মঞ্চে ফের একবার ভারতের জয়জয়কার। এক অনন্য ও বিরল সম্মানের অধিকারী হলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। সুইডেনে পা রাখতেই তাঁকে ভূষিত করা হলো সে দেশের সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় সম্মান ‘রয়্যাল অর্ডার অফ দ্য পোলার স্টার’ এ। ১৭৪৮ সালে প্রতিষ্ঠিত এই ঐতিহাসিক সম্মান এর আগে এশিয়ার কোনও রাষ্ট্রনেতা পাননি। ফলে প্রথম এশীয় বিশ্বনেতা হিসেবে এই সর্বোচ্চ সম্মান পেয়ে এক নতুন ইতিহাস গড়লেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী। এই আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির পর বিশ্বমঞ্চে নরেন্দ্র মোদির মোট প্রাপ্ত সম্মানের সংখ্যা গিয়ে দাঁড়াল ৩১-এ।
রবিবার সুইডেনের গোথেনবার্গ বিমানবন্দরে নামার পর প্রধানমন্ত্রী মোদিকে স্বাগত জানান সুইডিশ প্রধানমন্ত্রী উলফ ক্রিস্টারসন। তবে আসল চমকটি অপেক্ষা করছিল হোটেলে। সেখানে পৌঁছনো মাত্রই প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানাতে ভিড় জমিয়েছিলেন প্রবাসী ভারতীয়রা, যার মধ্যে সিংহভাগই ছিলেন প্রবাসী বাঙালি।

পুরোদস্তুর বাঙালি ঐতিহ্য মেনে পিতলের বরণডালা, প্রদীপ, ধান-দুর্বো এবং উলুধ্বনিতে মুখরিত হয়ে ওঠে হোটেল চত্বর। বিদেশের মাটিতে এই খাঁটি বাঙালিয়ানা দেখে মুগ্ধ হন খোদ সুইডেনের প্রধানমন্ত্রী উলফ ক্রিস্টারসনও। এই আবেগঘন মুহূর্তের পর কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও।
কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, মোদির এই সফরে বারবার বাংলার প্রসঙ্গ উঠে আসা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে বাংলায় বিজেপির রাজনৈতিক সাফল্যের পর প্রধানমন্ত্রীর এই বারবার ‘বাঙালিয়ানা’কে আপন করে নেওয়া অত্যন্ত সুপরিকল্পিত ও অর্থবহ।
শুধুমাত্র সংস্কৃতি বা সম্মান জ্ঞাপনই নয়, এই সফরের মূল লক্ষ্য দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরও এক ধাপ এগিয়ে নিয়ে যাওয়া। বাণিজ্য, প্রযুক্তি, পরিকাঠামো বিনিয়োগ এবং প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়াতে দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীদের মধ্যে অত্যন্ত ফলপ্রসূ বৈঠক হয়েছে। এই সফরের হাত ধরে ভারত ও সুইডেনের বাণিজ্যিক ও কৌশলগত সম্পর্কে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হতে চলেছে বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।



