১৭ মে : ভারত ও মায়ানমার সীমান্তজুড়ে সক্রিয় এক বৃহৎ মাদক পাচার চক্রের বিরুদ্ধে বড়সড় অভিযান চালিয়ে মূল সরবরাহকারী হিসেবে পরিচিত থ্যানচিনতুয়াং ওরফে চিন্তুয়াং ওরফে ত্লুয়াঙ্গাকে দিল্লি থেকে গ্রেফতার করেছে এনসিবি। এনসিবির প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, অভিযুক্ত চিন্তুয়াং মায়ান্মার, মিজোরাম, মণিপুর, অসম ও ত্রিপুরাজুড়ে সক্রিয় মাদক পাচার চক্রের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সদস্য। বিশেষ করে মায়ান্মার থেকে মেথামফেটামিন ও হেরোইন পাচারের ক্ষেত্রে সে ছিল অন্যতম বড় সরবরাহকারী।
তদন্তে আরও জানা গেছে, চিন্তুয়াং মিজোরাম, মণিপুর, অসম ও ত্রিপুরা হয়ে ভারত ও বাংলাদেশে মাদক সরবরাহের একটি সুসংগঠিত নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছিল। এনসিবির পাশাপাশি বিভিন্ন ড্রাগ ল’ এনফোর্সমেন্ট এজেন্সিও (ডিএলইএ) দীর্ঘদিন ধরে তাকে একাধিক এনডিপিএস মামলায় খুঁজছিল।
মিজোরামে তার বিরুদ্ধে একাধিক গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। ২০২৫ সালে চাম্পাই পুলিশ স্টেশনে দায়ের হওয়া দুটি এনডিপিএস মামলায় মেথামফেটামিন ও হেরোইন পাচারের অভিযোগে তার নাম উঠে আসে। এছাড়া ২০২৩ সালে মিজোরাম এক্সাইজ ও নারকোটিক্স দফতরের অধীনে দায়ের হওয়া ছয়টি এনডিপিএস মামলাতেও তার জড়িত থাকার তথ্য পাওয়া যায়। উদ্ধার হওয়া মাদকের আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ১১৫ কোটি টাকা বলে জানা গেছে।
এনসিবি জানিয়েছে, উত্তর-পূর্বাঞ্চলে ২০২৫ সালে মোট ৪৮টি এনডিপিএস মামলা রুজু করা হয়েছে। ওইসব মামলায় ১১৬ জন মাদক পাচারকারীকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং প্রায় ৬৬৫ কোটি টাকার মাদকদ্রব্য বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। চলতি ২০২৬ সালেও ইতিমধ্যে ৩১টি মামলা রুজু হয়েছে এবং আরও ৫৪ জন পাচারকারীকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
মাদক পাচার রোধে এনসিবি কঠোর অবস্থান নিয়েছে বলেও জানানো হয়েছে। সংস্থার পক্ষ থেকে জনগণকে মাদক সংক্রান্ত যেকোনো সন্দেহজনক তথ্য দ্রুত আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে জানানোর আহ্বান জানানো হয়েছে।



