মোহাম্মদ জনি, শ্রীভূমি।
বরাক তরঙ্গ, ২১ সেপ্টেম্বর : কণ্ঠে ছিল সুর, গানে ছিল মানুষের কথা, আর হৃদয়ে ছিল অসমের প্রতি গভীর ভালোবাসা। সেই সুরের জাদুকর, অসমের গৌরব তথা বিশিষ্ট কণ্ঠশিল্পী জুবিন গার্গের স্মৃতিতে আবেগঘন হয়ে উঠল করিমগঞ্জ জেলা কংগ্রেস কার্যালয় ‘ইন্দিরা ভবন’-এর প্রাঙ্গণ। জুবিন গার্গের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে শুক্রবার সন্ধ্যা ছয়টায় জেলা কংগ্রেসের উদ্যোগে আয়োজিত হয় বিশেষ ‘জুবিন স্মরণ’ অনুষ্ঠান। প্রিয় শিল্পীর প্রতিকৃতির সামনে প্রদীপ প্রজ্বলনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। এরপর একে একে বিভিন্ন শিল্পী ও গায়ক জুবিনের স্মৃতির উদ্দেশ্যে সংগীত পরিবেশন করলে গোটা প্রাঙ্গণে নেমে আসে এক আবেগঘন পরিবেশ।শুধু একজন জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী হিসেবে নয়, করিমগঞ্জের মানুষের সঙ্গে জুবিন গার্গের ছিল এক নিবিড় আত্মিক সম্পর্ক। তাঁর জীবনের বাল্যকালের একটি গুরুত্বপূর্ণ সময় কেটেছে করিমগঞ্জে। পরবর্তী সময়েও বিভিন্ন প্রয়োজনে ও সঙ্গীতানুষ্ঠানে একাধিকবার করিমগঞ্জে এসেছেন তিনি। ফলে তাঁর প্রয়াণের এক বছর পরও করিমগঞ্জের মানুষের স্মৃতিতে জুবিন যেন একইভাবে জীবন্ত। এদিনের স্মরণসভায় বক্তাদের বক্তব্যেও বারবার উঠে আসে সেই সম্পর্কের কথা।অনুষ্ঠানে উপস্থিত বক্তারা বলেন, জুবিন গার্গের কণ্ঠ ও সৃষ্টিশীলতা অসমের সাংস্কৃতিক জগতকে এক অনন্য উচ্চতায় পৌঁছে দিয়েছিল। তাঁর গান শুধু বিনোদনের মাধ্যম ছিল না, বরং তা ছুঁয়ে যেত সাধারণ মানুষের আবেগ, ভালোবাসা ও জীবনযাত্রাকে। করিমগঞ্জের সঙ্গে তাঁর দীর্ঘ সম্পর্কের কথা স্মরণ করে বক্তারা বলেন, জুবিন গার্গ এই জেলার মানুষের হৃদয়ে ছিলেন, আছেন এবং ভবিষ্যতেও থাকবেন।

ভাবগম্ভীর পরিবেশে আয়োজিত স্মরণসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে জেলা কংগ্রেস সভাপতি তাপস পুরকায়স্থ বলেন, জুবিন গার্গ শুধু অসমের গর্ব ছিলেন না, তিনি ছিলেন ভারতের জাতীয় সম্পদ। তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে জুবিনের জীবদ্দশায় যথাযথ মূল্যায়ন না হওয়ার আক্ষেপও। তাপস পুরকায়স্থের কথায়, জুবিনের চলে যাওয়ার পরই মানুষ উপলব্ধি করছে, কী অসামান্য প্রতিভাকে অসমবাসী হারিয়েছে।জুবিন গার্গের মৃত্যুকে ঘিরে বিভিন্ন প্রশ্নের প্রসঙ্গও এদিনের অনুষ্ঠানে উঠে আসে। তাপস পুরকায়স্থ বলেন, জুবিনের মৃত্যুর রহস্য এখনও ভেদ হয়নি বলে তাঁরা মনে করছেন। দ্রুত ও স্বচ্ছ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা জনগণের সামনে তুলে ধরার জন্য অসম সরকারের কাছে দাবি জানান তিনি।এদিনের স্মরণ অনুষ্ঠানে জুবিনের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন উপস্থিত কংগ্রেসকর্মী ও অনুরাগীরা। সঙ্গীত পরিবেশনের পাশাপাশি তাঁর স্মৃতিচারণে বারবার ফিরে আসে জুবিনের গান, তাঁর কণ্ঠ, তাঁর ব্যক্তিত্ব এবং মানুষের প্রতি তাঁর ভালোবাসার কথা।অনুষ্ঠানের একপর্যায়ে ‘জুবিন গার্গ অমর রহে’, ‘জুবিন, তোমায় আমরা ভুলিনি, ভুলব না এমন স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে ইন্দিরা ভবন প্রাঙ্গণ। উপস্থিত কংগ্রেসকর্মী ও জুবিনপ্রেমীদের আবেগঘন স্লোগানে যেন আরও একবার স্পষ্ট হয়ে ওঠে শিল্পীর শারীরিক অনুপস্থিতি থাকলেও তাঁর গান ও স্মৃতি মানুষের হৃদয় থেকে মুছে যায়নি।এদিনের অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জেলা কংগ্রেসের মিডিয়া ডিপার্টমেন্টের চেয়ারম্যান শাহাদত আহমদ চৌধুরী, জ্যোতিষ পুরকায়স্থ, তন্ময় মজুমদার, শুভঙ্কর দাস, রাজা দত্ত বণিক, অহিরঞ্জন দে, ধ্রুবজ্যোতি দাস, টিনা সেন, কমর উদ্দিন, রুচিতা পুরকায়স্থ, হাসিনা রহমান, আফজল আহমদ, নিপেন্দ্র চন্দ্র দাস, মানিক দে-সহ জেলা কংগ্রেসের অন্যান্য নেতা-কর্মী ও জুবিন অনুরাগীরা।স্মরণসভা ঘিরে এদিন করিমগঞ্জে যেন ফিরে আসে জুবিনের সুরের স্মৃতি। প্রদীপের আলো, প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধার্ঘ্য, সংগীত পরিবেশন এবং স্মৃতিচারণ সব মিলিয়ে এক আবেগঘন সন্ধ্যার সাক্ষী থাকে ইন্দিরা ভবন। প্রিয় শিল্পীকে ঘিরে উপস্থিত মানুষের আবেগে বারবার উচ্চারিত হয় একই বার্তা জুবিন নেই, কিন্তু তাঁর গান আছে; তাঁর স্মৃতি আছে, আর সেই স্মৃতি মানুষের হৃদয়ে চিরকাল বেঁচে থাকবে।



