রূপক চক্রবর্তী, শিলচর।
বরাক তরঙ্গ, ৯ জুন : বাজারে স্বচ্ছতা ও অভিন্নতা নিশ্চিত করতে ভোজ্য তেলের জন্য আদর্শ প্যাকেটের আকার চালু করেছে কেন্দ্রীয় সরকার। লিগ্যাল মেট্রোলজি কাঠামোর অধীনে উপভোক্তা বিষয়ক বিভাগ সম্প্রতি এ সংক্রান্ত সংশোধিত নির্দেশিকা জারি করেছে। এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে দেড় বছরের আন্দোলনের সাফল্য হিসেবে দাবি করেছে শিলচর ফুড গ্রেইন্স মার্চেন্ট অ্যাসোসিয়েশন। মঙ্গলবার শিলচরে আয়োজিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে সংস্থার সভাপতি প্রণব পাল চৌধুরী এ তথ্য জানান। এ সময় তাঁর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন সংস্থার সাধারণ সম্পাদক পঙ্কজ জৈন, প্রাক্তন সভাপতি মূলচাঁদ বৈদ, অসিত দত্ত, প্রাক্তন সাধারণ সম্পাদক দীপক পাল, পবন জৈন, নিতাই রায় ও দীপঙ্কর রায়।
প্রণব পাল চৌধুরী বলেন, গত ৫ জুন কেন্দ্রীয় উপভোক্তা বিষয়ক, খাদ্য ও গণবণ্টন মন্ত্রক ভোজ্য তেল ও চর্বির জন্য নির্দিষ্ট প্যাকেটের আকার নির্ধারণ করে নতুন নির্দেশিকা জারি করেছে। সংশোধিত নিয়ম অনুযায়ী পাম তেল, পামোলিন, সয়াবিন তেল, সূর্যমুখী তেল, সরিষার তেল, চিনাবাদাম তেল, তিলের তেল, রাইস ব্র্যান তেল, তুলাবীজ তেল এবং ভুট্টার তেলের জন্য নির্দিষ্ট প্যাকেটের মাপ নির্ধারণ করা হয়েছে।
নতুন নিয়ম অনুযায়ী অনুমোদিত প্যাকেটের আকার হবে ২০০ মিলিলিটার, ৫০০ মিলিলিটার, ১ লিটার, ২ লিটার, ৩ লিটার, ৪ লিটার, ৫ লিটার, ১৫ লিটার এবং ২০ লিটার। এই বিধান কার্যকর করতে তিন মাসের রূপান্তরকালও নির্ধারণ করা হয়েছে।
সংস্থার অভিযোগ, দেশের কয়েকটি বড় কোম্পানি দীর্ঘদিন ধরে ভোজ্য তেলের প্যাকেটের ওজন ও পরিমাণে অসঙ্গতি রেখে গ্রাহকদের বিভ্রান্ত করছিল। বিশেষ করে উত্তর-পূর্ব ভারতের সাত রাজ্যের ভোক্তারা এর ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছিলেন। অনেক ক্ষেত্রে ১ লিটার হিসেবে বিক্রি করা পণ্যে প্রকৃত পরিমাণ কম থাকত বলে অভিযোগ ওঠে।
প্রণব পাল চৌধুরী আরও জানান, এ বিষয়ে দেশজুড়ে বিভিন্ন বণিক সংগঠনের সঙ্গে যৌথভাবে প্রতিবাদ ও অভিযোগ জানিয়ে আসছিল শিলচর ফুড গ্রেইন্স মার্চেন্ট অ্যাসোসিয়েশন। আন্দোলনের জেরে বিভিন্ন ধরনের চাপ ও ব্যবসায়িক হুমকিরও মুখোমুখি হতে হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। তবে কেন্দ্রীয় সরকারের সাম্প্রতিক সিদ্ধান্তে বাজারে স্বচ্ছতা বাড়বে এবং গ্রাহকদের স্বার্থ সুরক্ষিত হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।



