মোহাম্মদ জনি, শ্রীভূমি।
বরাক তরঙ্গ, ২৯ আগস্ট : কাজিরাঙ্গা জাতীয় উদ্যান ও সংলগ্ন বনাঞ্চলের পরিবেশগত ভারসাম্য এবং বন্যপ্রাণীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবিতে করিমগঞ্জে প্রতিবাদী পদযাত্রা করল জেলা কংগ্রেস। প্রদেশ কংগ্রেসের নির্দেশে শনিবার প্রখর রোদ ও তীব্র গরম উপেক্ষা করে দলীয় পতাকা, প্ল্যাকার্ড ও স্লোগান নিয়ে রাজপথে নামেন কংগ্রেস নেতা-কর্মীরা।
পদযাত্রায় ‘কাজিরাঙ্গা বাঁচাও’, ‘পরিবেশ বাঁচাও’ এবং ‘বন্যপ্রাণী রক্ষা করো’—সহ বিভিন্ন স্লোগান ওঠে। কংগ্রেসের অভিযোগ, কাজিরাঙ্গা জাতীয় উদ্যানের পরিবেশ ও বন্যপ্রাণী রক্ষায় আগে যে ১০ কিলোমিটার সুরক্ষা বলয় কার্যকর ছিল, সরকারি সিদ্ধান্তে তা কমিয়ে এক কিলোমিটার করা হয়েছে। এর ফলে উদ্যান সংলগ্ন এলাকায় নির্মাণ ও বসতি স্থাপনের সুযোগ বাড়লে পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের উপর বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন দলীয় নেতারা।
জেলা কংগ্রেস সভাপতি তাপস পুরকায়স্থ বলেন, কাজিরাঙ্গা শুধু আসামের গর্ব নয়, দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ এলাকা। হাতি, গণ্ডার, বাঘসহ বহু বন্যপ্রাণীর নিরাপদ আবাসস্থল রক্ষায় সুরক্ষা বলয় অক্ষুণ্ণ রাখা জরুরি। উন্নয়নের নামে পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের সঙ্গে আপস করা উচিত নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
পাশাপাশি নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রীর মূল্যবৃদ্ধি, বেহাল রাস্তাঘাট এবং জনজীবনের বিভিন্ন সমস্যা নিয়েও সরব হয় কংগ্রেস। দুর্গাপূজার আগে বাজারদরের ঊর্ধ্বগতিতে সাধারণ মানুষের উপর বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়।
পদযাত্রা থেকে কংগ্রেসের দাবি, এক কিলোমিটারের পরিবর্তে পুনরায় ১০ কিলোমিটার সুরক্ষা বলয় কার্যকর করতে হবে। সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা না হলে আগামী দিনে আরও বৃহত্তর আন্দোলনে নামার হুঁশিয়ারি দেন তাপস পুরকায়স্থ।
কর্মসূচিতে শাহাদাত আহমেদ চৌধুরী, জ্যোতিষ পুরকায়স্থ, শুভঙ্কর দাস, প্রদীপ কুরি, নবেন্দু শর্মা পুরকায়স্থ, পঙ্কজ নাগ, ধ্রুবজ্যোতি দাস, গৌরাঙ্গ দে, টিনা সেন, রানা আচার্য, কমর উদ্দিন, অহিরঞ্জন দে-সহ জেলা কংগ্রেসের বিভিন্ন স্তরের নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।



