বরাক তরঙ্গ, ৩ নভেম্বর : জাতীয় আইনগত পরিষেবা কর্তৃপক্ষ (NALSA)-এর উদ্যোগে পরিচালিত ‘সুরক্ষিত বচপন অভিযান’ (Surakshit Bachpan Abhiyan)-এর অঙ্গ হিসেবে আজ কাছাড় জেলা আইনি পরিষেবা কর্তৃপক্ষের (DLSA) আয়োজনে শিলচরের নরসিং হায়ার সেকেন্ডারি স্কুলে এক আইনি সচেতনতা সভা অনুষ্ঠিত হয়। দুপুর ১টায় আয়োজিত এই সভায় বিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে শিশু সুরক্ষা, শিশু অধিকার এবং যৌন অপরাধ থেকে শিশুদের সুরক্ষা আইন, ২০১২ (POCSO Act, 2012) সম্পর্কে সচেতনতা গড়ে তোলার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়।
সভায় মুখ্য বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আইনজীবী ধর্মানন্দ দেব। তিনি তাঁর বক্তব্যে পকসো আইনের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিধান, শিশুদের ব্যক্তিগত সুরক্ষা, অনাকাঙ্ক্ষিত স্পর্শ ও যৌন হয়রানি থেকে আত্মরক্ষার উপায় এবং এ ধরনের অপরাধের ক্ষেত্রে আইনি প্রতিকার সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করেন। তিনি বলেন, শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা শুধু আইন প্রয়োগকারী সংস্থা বা প্রশাসনের দায়িত্ব নয়; পরিবার, বিদ্যালয় এবং সমাজের প্রত্যেকেরই এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।

তিনি ছাত্রছাত্রীদের উদ্দেশে বলেন, নিজের শরীর সম্পর্কে সচেতন হওয়া, ভালো স্পর্শ ও খারাপ স্পর্শের পার্থক্য বোঝা, অপরিচিত ব্যক্তির অনলাইন যোগাযোগ সম্পর্কে সতর্ক থাকা এবং কোনও ধরনের যৌন হয়রানি বা নির্যাতনের শিকার হলে ভয় কিংবা লজ্জায় নীরব না থেকে বিশ্বস্ত অভিভাবক, শিক্ষক অথবা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো অত্যন্ত জরুরি। পকসো আইনের অধীনে ১৮ বছরের কম বয়সি প্রত্যেক শিশুই সুরক্ষার অধিকারী। শিশুদের অভিযোগ জানানোর অধিকার এবং আইনগত সহায়তা পাওয়ার সুযোগ সম্পর্কেও তিনি আলোকপাত করেন।

সভায় অন্যান্য বক্তাদের মধ্যে আসাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী টিনা দাস প্রমুখ বক্তব্য রাখেন। তাঁরাও শিশুদের অধিকার, সামাজিক সচেতনতা এবং নিরাপদ পরিবেশ গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন।
বক্তারা জানান, নিরাপদ শৈশব অভিযান কেবল একটি সচেতনতামূলক কর্মসূচি নয়, বরং শিশুদের জন্য ভয়মুক্ত, নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ পরিবেশ গড়ে তোলার একটি সম্মিলিত প্রয়াস। শিশুদের আইনি অধিকার সম্পর্কে সচেতন করা এবং যৌন নির্যাতনের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলাই এই অভিযানের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।
সভায় ছাত্রছাত্রীদের সক্রিয় অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে শিশু সুরক্ষা ও আইনি সচেতনতার বার্তা তুলে ধরা হয়।



