সড়ক সংস্কারের কাজে রাখা পাথরেই বিপত্তি, কাটিগড়ায় মিষ্টির দোকানের শোকেস ভেঙে ব্যাপক ক্ষতি

Spread the news

এস পাল, কাটিগড়া।
বরাক তরঙ্গ, ২২ জুলাই :
সড়ক সংস্কারের কাজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে রাস্তার উপর রাখা বড় বড় পাথরই শেষ পর্যন্ত ডেকে আনল বিপত্তি। কাছাড় জেলার কাটিগড়া চৌরঙ্গী এলাকায় একটি ট্রাকের ধাক্কায় সেই পাথর ছিটকে গিয়ে একটি মিষ্টির দোকানের অত্যাধুনিক কাঁচের শোকেস ভেঙে ব্যাপক ক্ষতির অভিযোগ উঠেছে। ঘটনায় লক্ষাধিক টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছেন ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সড়ক সংস্কারের কাজের বরাতপ্রাপ্ত সংস্থার বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরাও।

জানা গেছে, কাটিগড়া চৌরঙ্গী এলাকায় সম্প্রতি সড়ক সংস্কারের কাজ করা হয়েছিল। সংস্কার করা অংশের উপর দিয়ে যাতে কোনও যানবাহন চলাচল করতে না পারে, সেজন্য রাস্তার উপর বড় বড় পাথর দিয়ে অস্থায়ীভাবে প্রতিবন্ধক তৈরি করা হয়। অভিযোগ, মঙ্গলবার গভীর রাতে একটি ট্রাক ওই পাথরের একটিতে ধাক্কা দিলে পাথরটি প্রচণ্ড বেগে ছিটকে গিয়ে রাস্তার ধারে অবস্থিত অনিতা রেস্টুরেন্ট-এর সামনের অংশে আঘাত হানে।

এই আঘাতে দোকানের দরজা ভেঙে যায় এবং ভিতরে থাকা একটি অত্যাধুনিক মিষ্টির শোকেসের বড় কাঁচ ভেঙে চুরমার হয়ে যায়। ফলে দোকানের ব্যাপক আর্থিক ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেন স্বত্বাধিকারী।

অনিতা রেস্টুরেন্টের স্বত্বাধিকারী জানান, রাতের অন্ধকারে ঘটে যাওয়া এই ঘটনায় তাঁদের লক্ষাধিক টাকার ক্ষতি হয়েছে। সড়ক সংস্কারের কাজের জন্য যে নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল, তা যথাযথভাবে পরিকল্পিত না হওয়ায় এই দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। তাঁর দাবি, কাজের বরাতপ্রাপ্ত সংস্থা NHIDCL-র অবহেলার কারণেই এই ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে এবং সংস্থার উচিত অবিলম্বে ক্ষতিপূরণ প্রদান করা।

ঘটনার পর এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। স্থানীয় ব্যবসায়ীদের একাংশেরও অভিযোগ, ব্যস্ত সড়কের উপর এভাবে বড় বড় পাথর ফেলে রাখার পরিবর্তে নিরাপদ ব্যারিকেড বা প্রতিফলকযুক্ত প্রতিবন্ধক ব্যবহার করা হলে এমন দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব ছিল।

এদিকে, ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী দ্রুত ক্ষতিপূরণ প্রদানের পাশাপাশি ভবিষ্যতে যাতে এ ধরনের ঘটনা আর না ঘটে, সে জন্য সড়ক সংস্কার কাজে আরও নিরাপদ ও বৈজ্ঞানিক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। ঘটনার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কাজের বরাতপ্রাপ্ত সংস্থার পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *