উপাচার্য নিয়োগ মামলায় ড. পন্থের পক্ষে স্থগিতাদেশ, পরবর্তী শুনানি ৫ জানুয়ারি

Spread the news

বরাক তরঙ্গ, ৩ নভেম্বর : আসাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য পদে আপাতত বহাল থাকছেন অধ্যাপক রাজীব মোহন পন্থ। মঙ্গলবার গৌহাটি হাইকোর্টের একক বিচারপতির বেঞ্চের রায়কে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে অধ্যাপক পন্থের দায়ের করা আপিল মামলার শুনানি শেষে পূর্ববর্তী রায়ের ওপর স্থগিতাদেশ জারি করেছে ডিভিশন বেঞ্চ। আগামী ৫ জানুয়ারি পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে। এরফলে গত কিছুদিন থেকে উপাচার্য পদ নিয়ে যে জটিলতার সৃষ্টি হয়েছিল, তারও আপাতত অবসান হলো।

প্রধান বিচারপতি বিচারপতি আশুতোষ কুমার ও বিচারপতি কৌশিক গোস্বামীর ডিভিশন বেঞ্চে মঙ্গলবার WA/413/2026 নম্বর মামলাটির শুনানি হয়। মামলায় অধ্যাপক পন্থের বিরুদ্ধে আবেদনকারী ড. সমীরা বেহেরা সহ আরও পাঁচজন রয়েছেন। কেন্দ্রীয় শিক্ষা মন্ত্রক, ইউজিসি এবং আসাম বিশ্ববিদ্যালয়ও বিবাদী পক্ষ।

উল্লেখ্য, গত ১৪ অক্টোবর একক বিচারপতির বেঞ্চ WP(C) No. 7283/2025 মামলায় অধ্যাপক পন্থের উপাচার্য নিয়োগ বাতিলের নির্দেশ দিয়েছিল। পাশাপাশি নিয়মিত উপাচার্য নিয়োগ না হওয়া পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের যোগ্য কাউকে দায়িত্বভার দেওয়া এবং নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরুর নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।

মঙ্গলবারের শুনানিতে ড. পন্থের পক্ষের আইনজীবী কে এন চৌধুরী যুক্তি দেন, ইউজিসির ২০১৮ সালের বিধির ৭.৩ ধারায় উপাচার্য পদের যোগ্যতার ক্ষেত্রে দুটি বিকল্প রয়েছে—বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপক হিসেবে ১০ বছরের অভিজ্ঞতা অথবা স্বনামধন্য গবেষণা কিংবা শিক্ষাপ্রশাসনিক প্রতিষ্ঠানে ১০ বছরের অভিজ্ঞতার সঙ্গে প্রমাণিত শিক্ষাগত নেতৃত্বের অভিজ্ঞতা। ড. পন্থের বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপনার অভিজ্ঞতার সঙ্গে ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব রুরাল ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড পঞ্চায়েতি রাজে (এনআইআরডি অ্যান্ড পিআর) ছয় বছরের বেশি কাজের অভিজ্ঞতা যুক্ত করলে প্রয়োজনীয় সময়সীমা পূর্ণ হয় বলে দাবি করা হয়। অন্যদিকে, মূল মামলাকারীর পক্ষের আইনজীবী এম নাথ জানান, ড. পন্থের যোগ্যতা নিয়ে সংশয় কীভাবে দূর করা হয়েছিল, তার সমর্থনে সার্চ কমিটির বৈঠকের কার্যবিবরণী ছাড়া অন্য কোনও নথি শিক্ষা মন্ত্রকের কাছে নেই।

শুনানিতে সার্চ কমিটির কার্যবিবরণী পেশ করা হলে দেখা যায়, ৩১ জন প্রার্থীকে সাক্ষাৎকারের জন্য সংক্ষিপ্ত তালিকাভুক্ত করা হয়েছিল। অধ্যাপক পন্থের নামও ছিল, তবে তাঁর প্রার্থিত্ব যোগ্যতা নিশ্চিত হওয়ার শর্তসাপেক্ষে রাখা হয়েছিল। পরবর্তী পর্যায়ে পাঁচজনের চূড়ান্ত তালিকায় তাঁর নাম অন্তর্ভুক্ত হয় এবং ভিজিল্যান্স ক্লিয়ারেন্সের পর নিয়োগের জন্য সুপারিশ করা হয়।

ডিভিশন বেঞ্চ পর্যবেক্ষণ করে, যোগ্যতা সংক্রান্ত সংশয় দূর করার কারণ কার্যবিবরণীতে আলাদাভাবে উল্লেখ না থাকলেই অধ্যাপক পন্থের প্রয়োজনীয় যোগ্যতা ছিল না, এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছনো যায় না। বিষয়টি বিস্তারিত শুনে নিষ্পত্তি করা প্রয়োজন বলেও জানায় আদালত।

অধ্যাপক পন্থের পক্ষে প্রবীণ আইনজীবী কেএন চৌধুরী ও পিপি মেধি এবং অন্য পক্ষে প্রবীণ আইনজীবী এম নাথ, ডিজে কপিল, কৌশিক জৈন ও আসাম বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষে এসসি কেয়াল সওয়াল করেন। ইউজিসির পক্ষে ছিলেন স্ট্যান্ডিং কাউন্সেল ড. এ চামুয়া।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *