বরাক তরঙ্গ, ২৯ জুলাই: লামডিং–বদরপুর পাহাড় রেলপথের নিউ হারাঙ্গাজাও স্টেশনের কাছে রেললাইনের নিচের মাটি ধসে পড়ায় উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেলওয়ের এই গুরুত্বপূর্ণ রুটে ট্রেন চলাচল এখনও স্বাভাবিক হয়নি। ফলে ব্যাপক দুর্ভোগে পড়েছেন হাজার হাজার রেলযাত্রী। পাহাড়ি রুটের বিভিন্ন স্টেশনে দূরপাল্লার ট্রেন ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থাকায় তীব্র গরমে যাত্রীদের চরম ভোগান্তির মুখে পড়তে হচ্ছে।
বুধবার শিলচর–শিয়ালদহ কাঞ্চনজঙ্ঘা এক্সপ্রেস নির্ধারিত সময়ে শিলচর থেকে ছাড়ার পর বান্দরখাল স্টেশনে প্রায় দুই ঘণ্টা আটকে রাখা হয়। এতে যাত্রীদের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়। রেল সূত্রে জানা গেছে, নিউ হারাঙ্গাজাও স্টেশন সংলগ্ন ক্ষতিগ্রস্ত ট্র্যাকের কারণে স্টেশনের ১ ও ২ নম্বর লাইন সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। ১ নম্বর লাইন গত ২০ জুলাই দুপুর ১২টা থেকে এবং ২ নম্বর লাইন ২৩ জুলাই রাত ১১টা ৫ মিনিট থেকে বন্ধ রয়েছে। বর্তমানে সমস্ত ট্রেন শুধুমাত্র ৩ নম্বর লাইন ব্যবহার করে চলাচল করছে। তবে ওই লাইনের অবস্থাও নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
যাত্রীদের নিরাপত্তার স্বার্থে উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেলওয়ে সন্ধ্যা ৭টা থেকে ভোর ৫টা পর্যন্ত যাত্রীবাহী ট্রেন চলাচলে বিধিনিষেধ আরোপ করেছে। এই পরিস্থিতিতে ২৫ থেকে ৩০ জুলাইয়ের মধ্যে একাধিক ট্রেন বাতিল, পুনঃসূচীকরণ এবং পথিমধ্যে নিয়ন্ত্রণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বাতিল হওয়া ট্রেনগুলির মধ্যে রয়েছে ১৫৬১৭ গুয়াহাটি–দুল্লভছড়া এক্সপ্রেস, ১৫৬১৮ দুল্লভছড়া–গুয়াহাটি এক্সপ্রেস, ১৫৬১৫ গুয়াহাটি–শিলচর এক্সপ্রেস এবং ১৫৬১৬ শিলচর–গুয়াহাটি এক্সপ্রেস।
এছাড়া ১৫৬৫০ নারেঙ্গি–আগরতলা, ১৫৬৪৯ আগরতলা–নারেঙ্গি, ১৫৬০৯ গুয়াহাটি–সাইরাং, ১৫৬১০ সাইরাং–গুয়াহাটি, ১৫৬১১ রাঙিয়া–শিলচর, ১৫৬১২ শিলচর–রাঙিয়া, ২০৫০১ আগরতলা–আনন্দ বিহার তেজস এক্সপ্রেস, ১৪৬১৯ আগরতলা–ফিরোজপুর এক্সপ্রেস এবং ১৫৬০৮ শিলচর–তিরুবনন্তপুরম এক্সপ্রেস নির্ধারিত সময়ের তুলনায় কয়েক ঘণ্টা বিলম্বে চলাচল করবে।
অন্যদিকে, ১২৫০৩ বেঙ্গালুরু ক্যান্টনমেন্ট–আগরতলা, ১২৫০১ কলকাতা–আগরতলা, ১৫৬২৫ দেওঘর–আগরতলা এবং ১৭০৩১ চারলাপল্লী–আগরতলা এক্সপ্রেসকে পথিমধ্যে সুবিধাজনক স্টেশনে নিয়ন্ত্রণ করে চালানো হবে বলে জানিয়েছে রেল কর্তৃপক্ষ।
উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেলওয়ে জানিয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত ট্র্যাক সম্পূর্ণ নিরাপদ ঘোষণা না হওয়া পর্যন্ত এই বিশেষ ব্যবস্থা বহাল থাকবে। যাত্রীদের ভ্রমণের আগে সংশ্লিষ্ট ট্রেনের সর্বশেষ অবস্থান ও সময়সূচি জানতে রেলওয়ের তথ্য পরিষেবা বা অনুসন্ধান কেন্দ্রের সঙ্গে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।



