মোহাম্মদ জনি, শ্রীভূমি।
বরাক তরঙ্গ, ২০ আগস্ট : প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ও ভারতরত্ন রাজীব গান্ধীর জন্মদিন উপলক্ষে দেশজুড়ে পালিত হচ্ছে ‘সদ্ভাবনা দিবস’। এরই অংশ হিসেবে বৃহস্পতিবার করিমগঞ্জ জেলা কংগ্রেসের উদ্যোগে ইন্দিরা ভবনে দিনভর বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে যথাযোগ্য মর্যাদায় রাজীব গান্ধীর জন্মদিন পালন করা হয়। অনুষ্ঠানের শুরুতে জেলা কংগ্রেস সভাপতি তাপস পুরকায়স্থ রাজীব গান্ধীর প্রতিকৃতিতে পুষ্পার্ঘ্য ও মাল্যদান করে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। পরে দলের বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীরাও প্রতিকৃতিতে মাল্যদান করেন। এরপর তাপস পুরকায়স্থের পৌরহিত্যে অনুষ্ঠিত হয় স্মরণসভা ও আলোচনা সভা।
সভায় বক্তারা রাজীব গান্ধীর রাজনৈতিক জীবন, প্রশাসনিক দক্ষতা এবং আধুনিক ভারত নির্মাণে তাঁর অবদানের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। জেলা কংগ্রেস সভাপতি বলেন, রাজীব গান্ধী ছিলেন আধুনিক ভারতের অন্যতম রূপকার। তরুণদের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় আরও বেশি করে যুক্ত করতে ভোটদানের বয়স ২১ থেকে ১৮ বছরে নামিয়ে আনার মতো গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ তাঁর আমলেই নেওয়া হয়েছিল।
তাঁর মতে, তথ্যপ্রযুক্তি, কম্পিউটার ও টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থার প্রসারে রাজীব গান্ধীর দূরদর্শী চিন্তার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। প্রবীণ আইনজীবী জ্যোতির্ময় দাস টেলিকম ক্ষেত্রে তাঁর অবদানের কথা তুলে ধরে এমটিএনএল, বিএসএনএল ও সি-ডটের মতো উদ্যোগের উল্লেখ করেন।
মিডিয়া বিভাগের চেয়ারম্যান শাহাদাত আহমদ চৌধুরী পঞ্চায়েত ব্যবস্থা ও শিক্ষাক্ষেত্রে রাজীব গান্ধীর ভূমিকার কথা তুলে ধরেন। তিনি জওহর নবোদয় বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার উদ্যোগের কথাও উল্লেখ করেন। জেলা কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক প্রদীপ কুরি ও শুভঙ্কর দাস ১৯৮৬ সালের জাতীয় শিক্ষা নীতি এবং ১৯৮৫ সালের দলত্যাগ বিরোধী আইনের প্রসঙ্গ তুলে ধরেন।
আইনজীবী জ্যোতিষ পুরকায়স্থ আসাম চুক্তি, পাঞ্জাব ও মিজোরামে শান্তি প্রতিষ্ঠার উদ্যোগে রাজীব গান্ধীর ভূমিকার কথা স্মরণ করেন। বক্তারা বলেন, বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, শিক্ষা, যুবসমাজ এবং গণতান্ত্রিক বিকেন্দ্রীকরণের ক্ষেত্রে তাঁর চিন্তাভাবনা আজও প্রাসঙ্গিক।
অনুষ্ঠানে পঙ্কজ নাগ, নবেণ্দু শর্মা পুরকায়স্থ, আসুক উদ্দিন, ধ্রুবজ্যোতি দাস, অহিরঞ্জন দে, নৃপেন্দ্র চন্দ্র, অনুরাগ দত্ত, মমতাজ বেগম, রাজন চৌধুরী, মহিদুল ইসলাম, রাজা দত্ত, দুলন পাল, নিজাম উদ্দিন, টিনা সেন, গৌরাঙ্গ দে, হোসেন আহমদ-সহ জেলা কংগ্রেসের বিভিন্ন স্তরের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। দিনটির কর্মসূচিতে রাজীব গান্ধীর স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর পাশাপাশি তাঁর সদ্ভাবনা, ঐক্য ও সম্প্রীতির বার্তা মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।



