মোহাম্মদ জনি, শ্রীভূমি।
বরাক তরঙ্গ, ৬ জুলাই : করিমগঞ্জ জেলা কংগ্রেসের সভাপতি হিসেবে তাপস পুরকায়স্থের দায়িত্ব গ্রহণের এক বছর পূর্তি উপলক্ষে জেলা কংগ্রেস ও সহযোগী সংগঠনগুলির উদ্যোগে রবিবার এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে কংগ্রেস নেতা-কর্মী, যুব কংগ্রেস, এনএসইউআই-সহ বিভিন্ন শাখা সংগঠনের প্রতিনিধিরা অনুষ্ঠানে অংশ নেন। সংগঠনের ঐক্য, নেতৃত্বের মূল্যায়ন এবং ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা নিয়েই ছিল অনুষ্ঠানের মূল সুর।
অনুষ্ঠানের শুরুতে আমন্ত্রিত অতিথি ও বিশিষ্ট নেতৃবৃন্দকে সংবর্ধনা জানানো হয়। পরে উত্তরীয় পরিয়ে জেলা কংগ্রেস সভাপতি তাপস পুরকায়স্থকে সম্মানিত করা হয়। স্মারক ও উপহারসামগ্রী তুলে দিয়ে তাঁর এক বছরের সাংগঠনিক নেতৃত্বের প্রতি শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন উপস্থিত নেতাকর্মীরা। উদ্বোধনী সংগীতের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের আনুষ্ঠানিক সূচনা হয়।
সভায় সভাপতিত্ব করেন করিমগঞ্জ জেলা যুব কংগ্রেসের সভাপতি নেজাম উদ্দিন। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন জেলা কংগ্রেসের মিডিয়া ডিপার্টমেন্টের চেয়ারম্যান শাহাদত আহমদ চৌধুরী। বক্তারা তাঁদের বক্তব্যে তাপস পুরকায়স্থের সাংগঠনিক দক্ষতা, কর্মনিষ্ঠা ও নেতৃত্বের প্রশংসা করেন। জেলা যুব কংগ্রেসের কার্যকরী সভাপতি ভিকি কুরি বলেন, তাপস পুরকায়স্থ শুধু জেলা কংগ্রেসের সভাপতি নন, যুব কংগ্রেসেরও অন্যতম অনুপ্রেরণা। কর্মীদের ঐক্যবদ্ধ রেখে শক্তিশালী সংগঠন গড়ে তোলার ক্ষেত্রে তাঁর ভূমিকা উল্লেখযোগ্য।
এনএসইউআই-এর পক্ষ থেকে করিমগঞ্জ কলেজ ছাত্র সংসদের সাধারণ সম্পাদক রুচিকা পুরকায়স্থ বলেন, জেলা সভাপতির দায়িত্ব গ্রহণের পর তাঁর কৌশলগত নেতৃত্বেই করিমগঞ্জ কলেজ ছাত্র সংসদ নির্বাচনে কংগ্রেস সমর্থিত প্রার্থীরা গুরুত্বপূর্ণ পদে জয়লাভ করতে সক্ষম হয়েছেন।
জেলা কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক শুভঙ্কর দাস বলেন, তাপস পুরকায়স্থের একমাত্র লক্ষ্য দলকে আরও শক্তিশালী ও জনমুখী করে তোলা। অপর সাধারণ সম্পাদক (প্রশাসন) প্রদীপ কুরি জানান, সংগঠন পরিচালনা ও কর্মীদের মধ্যে সমন্বয় সাধনে তাঁর দক্ষতা সকলের জন্য শিক্ষণীয়।
এছাড়াও নিপেন্দ্র চন্দ্র দাস, অহিরঞ্জন দে, আব্দুল ওয়ারিস, প্রশান্ত পাল-সহ একাধিক নেতা বক্তব্য রাখেন। তাঁরা বলেন, তাপস পুরকায়স্থের নেতৃত্বে জেলা কংগ্রেসে নতুন উদ্দীপনা ও কর্মচাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মদন সাহা, ধ্রুবজ্যোতি দাস, গৌরাঙ্গ দে, রাখাল রায়, কমর উদ্দিন, আসুক উদ্দিন, লক্ষ্মী দত্তগুপ্ত, দোলন পাল, রানা আচার্য, সঞ্জয় আচার্য, রাজন চৌধুরী, নমিক উদ্দিন, ভরত রাউথ, আফজল আহমদ, মনোজ দে, শঙ্কু পাল চৌধুরী, কয়েস আহমদ-সহ জেলা কংগ্রেস ও সহযোগী সংগঠনের বহু নেতা-কর্মী।
সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তাপস পুরকায়স্থ বলেন, দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই তাঁর প্রধান লক্ষ্য ছিল দলের সব স্তরের নেতা-কর্মীদের ঐক্যবদ্ধ করে একটি শক্তিশালী সংগঠন গড়ে তোলা। সকলের মতামতকে গুরুত্ব দিয়ে এবং নিয়মিত আলোচনার মাধ্যমে সংগঠনের কার্যক্রম পরিচালনা করায় ইতিবাচক ফল মিলেছে বলে তিনি দাবি করেন।
তিনি বলেন, গত এক বছরে করিমগঞ্জ কলেজ ছাত্র সংসদ নির্বাচন এবং সদ্য সমাপ্ত বিধানসভা নির্বাচনে জেলা কংগ্রেস উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছে। বিধানসভা নির্বাচনে দুটি আসনে জয় এবং আরও দুটি আসনে উল্লেখযোগ্য ভোটপ্রাপ্তিকে তিনি সংগঠনের শক্তি বৃদ্ধির প্রমাণ বলে উল্লেখ করেন।
নিজের বক্তব্যে তিনি প্রয়াত কংগ্রেস নেতা মাধবেন্দ্র দত্ত চৌধুরী, প্রাক্তন মন্ত্রী আব্দুল মুক্তাদির চৌধুরী, প্রাক্তন বিধায়ক কেতকি প্রসাদ দত্ত, উত্তম মজুমদার, সতু রায় ও দেবশ্রী ভট্টাচার্য-সহ একাধিক বর্ষীয়ান নেতার কাছ থেকে পাওয়া শিক্ষা ও দিকনির্দেশনার কথা স্মরণ করেন। পাশাপাশি জেলা সভাপতির দায়িত্ব পালনে যাঁরা তাঁর পাশে ছিলেন, তাঁদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা জানান।
অনুষ্ঠানে সামাজিক দায়বদ্ধতার বার্তাও তুলে ধরা হয়। সভাপতির এক বছর পূর্তি উপলক্ষে স্থানীয় বেলাভূমি বৃদ্ধাশ্রমে ফলমূল বিতরণ করা হয়। এছাড়া একটি চাইল্ড হেলথ কেয়ার সেন্টারে শিশুদের মধ্যে খাদ্যসামগ্রী, পোশাক ও ডায়াপার বিতরণ করেন নেতাকর্মীরা। তাঁদের বক্তব্য, সমাজের অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়ানো কংগ্রেসের আদর্শ ও ঐতিহ্যের অংশ।
দিনব্যাপী কর্মসূচির শেষ পর্বে তাপস পুরকায়স্থকে নিয়ে কেক কেটে বর্ষপূর্তি উদযাপন করা হয়। করতালি, শুভেচ্ছা ও দলীয় স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে অনুষ্ঠানস্থল। উপস্থিত নেতা-কর্মীরা আশা প্রকাশ করেন, তাঁর নেতৃত্বে আগামী দিনেও করিমগঞ্জ জেলা কংগ্রেস আরও সুসংগঠিত ও জনমুখী ভূমিকা পালন করবে।



