মোহাম্মদ জনি, শ্রীভূমি।
বরাক তরঙ্গ, ২৫ জুন : ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র সুতারকান্দি ল্যান্ড পোর্টের উন্নয়ন ও বাণিজ্য সম্প্রসারণ নিয়ে নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক ঘিরে বরাক উপত্যকায় নতুন আশার সঞ্চার হয়েছে। দক্ষিণ করিমগঞ্জের বিধায়ক আমিনুর রশিদ চৌধুরী বৃহস্পতিবার রাজধানীর লোকনায়ক ভবনে ল্যান্ড পোর্ট অথরিটি অব ইন্ডিয়া (এলপিএআই)-এর চেয়ারম্যান জয়ন্ত সিংহের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে স্থলবন্দরের বিভিন্ন সমস্যা ও সম্ভাবনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।
বৈঠকে সুতারকান্দি ল্যান্ড পোর্টের অবকাঠামোগত উন্নয়ন, সীমান্ত বাণিজ্যের সম্প্রসারণ, আধুনিক বাণিজ্যিক সুবিধা বৃদ্ধি এবং ব্যবসায়ীদের দীর্ঘদিনের সমস্যার সমাধান নিয়ে আলোচনা হয়। পাশাপাশি ডিরেক্টরেট জেনারেল অব ফরেন ট্রেড (ডিজিএফটি)-এর ১৭ মে ২০২৫ সালের নির্দেশনার ফলে বন্ধ হয়ে যাওয়া কিছু গুরুত্বপূর্ণ পণ্যের আমদানি পুনরায় চালুর বিষয়টিও উত্থাপন করেন বিধায়ক।
তিনি জানান, ওই সিদ্ধান্তের ফলে সীমান্ত বাণিজ্যের সঙ্গে যুক্ত পরিবহণ শ্রমিক, লোডিং-আনলোডিং কর্মী, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তাদের জীবিকায় বিরূপ প্রভাব পড়েছে। বৈঠকে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হয়েছে এবং আমদানি পুনরায় চালুর সম্ভাবনা নিয়ে ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে বলে সূত্রে জানা গেছে।
এছাড়া আধুনিক গুদামঘর নির্মাণ, উন্নত কাস্টমস ব্যবস্থা, ডিজিটাল ক্লিয়ারেন্স, পর্যাপ্ত ট্রাক টার্মিনাল ও সড়ক যোগাযোগের উন্নয়নের প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরা হয়। সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, এসব সুবিধা বাস্তবায়িত হলে সুতারকান্দি উত্তর-পূর্ব ভারতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক বাণিজ্যকেন্দ্রে পরিণত হতে পারে।
বৈঠক শেষে আমিনুর রশিদ চৌধুরী বলেন, “সুতারকান্দি শুধু একটি স্থলবন্দর নয়, বরং সমগ্র বরাক উপত্যকার অর্থনৈতিক উন্নয়নের প্রবেশদ্বার। সীমান্ত বাণিজ্যের বিকাশ ঘটলে নতুন বিনিয়োগ, শিল্প ও কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে।”
ব্যবসায়ী ও সচেতন মহলের মতে, দীর্ঘদিনের অবহেলার পর সুতারকান্দিকে কেন্দ্র করে দিল্লিতে অনুষ্ঠিত এই বৈঠক অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। পরিকল্পিত উদ্যোগ ও কেন্দ্রীয় সহযোগিতা মিললে আগামী দিনে বরাক উপত্যকার অর্থনীতিতে নতুন জোয়ার আসতে পারে বলে তারা আশাবাদী।



