২৭ অক্টোবর : মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যে আঞ্চলিক শান্তি ও নিরাপত্তা বজায় রাখতে ইরানের রাজধানী তেহরানে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে বসেছেন সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের শীর্ষ প্রতিনিধিরা। সোমবার অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে আঞ্চলিক সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ধারাবাহিক কূটনৈতিক আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার বিষয়ে ঐকমত্যে পৌঁছেছেন সংশ্লিষ্ট দেশের প্রতিনিধিরা।
ফার্স নিউজ এজেন্সির প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ইরান ও তিন দেশের প্রতিনিধিদের মধ্যে অনুষ্ঠিত এই বৈঠককে ফলপ্রসূ বলে উল্লেখ করা হয়েছে। বৈঠকে চার দেশের পারস্পরিক সম্পর্ক উন্নয়ন এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে একযোগে কাজ করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়। ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের উপসচিব আলি বাঘেরি কানির বক্তব্য অনুযায়ী, আঞ্চলিক নিরাপত্তা সুসংহত করাই ছিল এই বৈঠকের অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য।

সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের মধ্যে চলতি বছর স্বাক্ষরিত ‘মক্কা প্যাক্ট’-এর পর ইরানের সঙ্গে এটি প্রথম উচ্চপর্যায়ের যৌথ বৈঠক। সউদী আরবের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী প্রিন্স খালিদ বিন সালমান। পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির এবং তুরস্কের জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থার প্রধান ইব্রাহিম কালিনও বৈঠকে অংশ নেন। পরে প্রতিনিধিরা ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানসহ দেশটির শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করেন।
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্ভাব্য সংঘাত এড়াতে কাতার ও পাকিস্তান মধ্যস্থতার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। কূটনৈতিক সূত্রের দাবি, পারস্য উপসাগরের গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত রাখা এবং ইরানের বন্দরগুলোর ওপর মার্কিন নৌ-অবরোধ প্রত্যাহারের বিষয়ে একটি সম্ভাব্য সমঝোতা নিয়ে আলোচনা চলছে। তবে পারমাণবিক কর্মসূচি ও ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের প্রশ্নে দুই পক্ষের মধ্যে মতপার্থক্য রয়েছে।

অন্যদিকে, ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের সঙ্গে সৌদি আরবের সংঘাত এবং ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপের আশঙ্কা আঞ্চলিক পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। এমন পরিস্থিতিতে তেহরানে সউদী প্রতিনিধিদলের উপস্থিতিকে গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই জানিয়েছেন, আঞ্চলিক দেশগুলোর নিজেদের স্বার্থ ও বাস্তবতার ভিত্তিতে নিরাপত্তাব্যবস্থা গড়ে তোলার উদ্যোগ ইতিবাচক। সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর এই কূটনৈতিক তৎপরতা মধ্যপ্রাচ্যে বড় ধরনের সংঘাত এড়াতে কতটা কার্যকর হয়, এখন সেদিকেই নজর আন্তর্জাতিক মহলের।
সূত্র: নিউইয়র্ক টাইমস



