২৭ অক্টোবর : বঙ্গোপসাগরে সৃষ্টি হওয়া ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’ আরও শক্তি বাড়িয়ে ঘণ্টায় ২৩ কিলোমিটার বেগে ধেয়ে আসছে পশ্চিম-উত্তরপশ্চিম দিকে। এরপরে তীব্র ঘূর্ণিঝড়ের রূপ নিয়ে আছড়ে পড়বে উপকূলে। অন্ধ্র ও সংলগ্ন দক্ষিণ ওড়িশা উপকূলে ইতিমধ্যে জারি হয়েছে লাল সতর্কতা। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে বেশ কয়েকটি দূরপাল্লার ট্রেন বাতিল করা হয়েছে।
রেল সূত্রে খবর, আগামী ২৯ অক্টোবর থেকে ৪ নভেম্বর পর্যন্ত বাতিল থাকবে ১৮১০৭ রউরকেলা-জগদলপুর এক্সপ্রেস। পাশাপাশি, ১৮১০৮ জগদলপুর-রউরকেলা এক্সপ্রেস ৩০ অক্টোবর থেকে ৫ নভেম্বর পর্যন্ত বাতিল করা হয়েছে। অন্যদিকে, ১৮০০৫ হাওড়া-জগদলপুর এক্সপ্রেস আজ, ২৭ অক্টোবর থেকে ৩০ অক্টোবর পর্যন্ত বাতিল থাকবে। একইভাবে ১৮০০৬ জগদলপুর-হাওড়া এক্সপ্রেস বাতিল করা হয়েছে ২৮ অক্টোবর থেকে ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত।

আগামীকাল বুধবার দুপুরের আগেই ‘অর্ণব’ প্রবেশ করবে স্থলভূমিতে। অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূলের বাপাতলা ও বিশাখাপত্তনমের মধ্যবর্তী কোনো জায়গা দিয়ে। অনুমান করা হচ্ছে, ঘূর্ণিঝড়ের কেন্দ্রস্থল হবে অন্ধ্র লাগোয়া পুদুচেরির ইয়ানাম এলাকা। এই শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড়ের সবথেকে বেশি প্রভাব পড়বে অন্ধ্রপ্রদেশ-পুদুচেরি এবং দক্ষিণ ওড়িশায়।

আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, উপকূলে আছড়ে পড়ার সময় ঘূর্ণিঝড়ের গড় গতিবেগ থাকবে ঘণ্টায় ১১৫ থেকে ১২৫ কিমি। তবে দমকা হাওয়ার সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ১৪০ কিমি পর্যন্ত হতে পারে। উপকূল অতিক্রম করার পর অর্ণব শক্তি কিছুটা হারিয়ে সাধারণ ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হবে। তবে তখনো ঝোড়ো হাওয়ার গতিবেগ ৭০-৮০ কিমি (দমকা ৯০ কিমি) থাকবে। বৃহস্পতিবার এটি আরও দুর্বল হয়ে অতি গভীর নিম্নচাপ হবে এবং তারপর আরও দুর্বল হতে থাকবে। দুর্বল হয়ে পড়া ঘূর্ণিঝড়ের অংশ ছত্তিশগড়-মধ্যপ্রদেশ হয়ে উত্তরপ্রদেশের দিকে যাবে।



