২৬ অক্টোবর : ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের দ্বিতীয় দফার ভোটে জয় পেয়েছেন বর্তমান প্রেসিডেন্ট ও বামপন্থী নেতা লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভা। ডানপন্থী প্রতিদ্বন্দ্বী ফ্লাভিও বলসোনারোকে পরাজিত করে চতুর্থবারের মতো দেশটির প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছেন তিনি। প্রথম দফার ভোটে পিছিয়ে থাকলেও দ্বিতীয় দফায় ঘুরে দাঁড়িয়ে জয় নিশ্চিত করেন লুলা।
রবিবার অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় দফার ভোট গণনা শেষে নির্বাচনী কর্তৃপক্ষ লুলাকে বিজয়ী ঘোষণা করে। বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের (এপি) প্রতিবেদন অনুযায়ী, সব ভোট গণনা শেষে লুলা পেয়েছেন প্রায় ৫১ দশমিক ৮ শতাংশ ভোট। অন্যদিকে ফ্লাভিও বলসোনারো পেয়েছেন ৪৮ দশমিক ২ শতাংশ ভোট। দুই প্রার্থীর মধ্যে ভোটের ব্যবধান প্রায় ৪৪ লক্ষ।

প্রথম দফার নির্বাচনে লুলার চেয়ে বেশি ভোট পেয়েছিলেন ফ্লাভিও বলসোনারো। তবে কোনো প্রার্থী প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে না পারায় নির্বাচন গড়ায় দ্বিতীয় দফায়। সেখানে জয় ছিনিয়ে নেন লুলা। ব্রাজিলে ১৯৮৫ সালে সামরিক শাসনের অবসানের পর অনুষ্ঠিত প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ইতিহাসে প্রথম দফায় পিছিয়ে থেকেও দ্বিতীয় দফায় জয়ের ঘটনা এটিই প্রথম বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
ফ্লাভিও বলসোনারো দেশটির সাবেক প্রেসিডেন্ট জইর বলসোনারোর ছেলে। এবারের নির্বাচনে বাবার রাজনৈতিক সমর্থনকে কাজে লাগিয়ে প্রেসিডেন্ট পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন তিনি। ২০২২ সালের নির্বাচনে জইর বলসোনারোকে পরাজিত করে তৃতীয়বারের মতো প্রেসিডেন্ট হয়েছিলেন লুলা। এবারের জয় তাঁর নতুন মেয়াদের পথ সুগম করেছে। তথ্য অনুযায়ী, তাঁর চতুর্থ মেয়াদ শুরু হওয়ার কথা ২০২৭ সালের ৫ জানুয়ারি।

নির্বাচনের আগে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, খাদ্যপণ্যের দাম এবং জননিরাপত্তা নিয়ে ভোটারদের মধ্যে উদ্বেগ ছিল। নির্বাচনী প্রচারে ফ্লাভিও বলসোনারো অপরাধ দমনে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ এবং খাদ্যপণ্যের দাম কমানোর প্রতিশ্রুতি দেন। অন্যদিকে লুলা তাঁর সরকারের চলমান সামাজিক ও অর্থনৈতিক কর্মসূচি অব্যাহত রাখার অঙ্গীকার করেন।
বিজয় ঘোষণার পর ব্রাজিলের বিভিন্ন শহরে লুলার সমর্থকেরা আনন্দ-উল্লাস করেন। তবে ফ্লাভিও বলসোনারো পরাজয় মেনে নিতে অস্বীকৃতি জানিয়ে নির্বাচনের ফল বাতিলের দাবি তুলেছেন। ভোট গ্রহণের সময়সীমা শেষ মুহূর্তে দুই ঘণ্টা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি নির্বাচনের ফলের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে আপত্তি জানান। তবে প্রতিবেদন অনুযায়ী, দুই প্রার্থীই ভোট গ্রহণের সময় বাড়ানোর অনুরোধ করেছিলেন।



