দুর্গাপূজার নিরাপত্তায় তৎপর প্রশাসন, বাজারিছড়া থানায় গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক

Spread the news

মোহাম্মদ জনি, পাথারকান্দি।
বরাক তরঙ্গ, ১০ অক্টোবর : আসন্ন শারদীয় দুর্গোৎসব শান্তিপূর্ণ, সুশৃঙ্খল ও নিরাপদভাবে সম্পন্ন করতে আগাম প্রস্তুতি শুরু করেছে প্রশাসন। এ উপলক্ষে শুক্রবার বাজারিছড়া থানায় এক গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সভায় পূজার নিরাপত্তা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণ এবং প্রতিমা বিসর্জন-সহ বিভিন্ন বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। উৎসবের দিনগুলিতে যাতে কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে এবং সর্বস্তরের মানুষ নির্বিঘ্নে পূজার আনন্দ উপভোগ করতে পারেন, সে বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়।

বাজারিছড়া থানার উদ্যোগে আয়োজিত এই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন পাথারকান্দি সমজেলার পুলিশ সুপার অনির্বাণ শর্মা, বাজারিছড়া থানার ওসি খনিন্দ্র নাথ, স্থানীয় নাগরিক কমিটির চেয়ারম্যান হৃষিকেশ নন্দী, বাজারিছড়া গ্রাম পঞ্চায়েতের সভানেত্রী ডলিরানি নন্দী, লোয়াইরপোয়া জেলা পরিষদের সদস্য স্বপন দাস-সহ বিভিন্ন দুর্গাপূজা কমিটির প্রতিনিধি ও বিশিষ্ট নাগরিকরা।
সভায় পূজা কমিটিগুলিকে সরকারি নির্দেশিকা ও নির্ধারিত নিয়মাবলি মেনে চলার আহ্বান জানানো হয়। প্রতিটি পূজামণ্ডপে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন এবং স্বেচ্ছাসেবক নিয়োগের ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেন প্রশাসনিক আধিকারিকরা। দর্শনার্থীদের ভিড় নিয়ন্ত্রণ, নিরাপদ যাতায়াত এবং জরুরি পরিস্থিতিতে প্রশাসনকে সহযোগিতা করার ক্ষেত্রে স্বেচ্ছাসেবকদের ভূমিকার কথা তুলে ধরা হয়। পাশাপাশি, প্রতিটি পূজামণ্ডপে জরুরি পরিষেবার যোগাযোগ নম্বর দৃশ্যমান স্থানে টাঙিয়ে রাখা এবং পূজার আয়োজনের আগে প্রয়োজনীয় অনুমতি নেওয়ার বিষয়েও নির্দেশ দেওয়া হয়।

শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রেও পূজা কমিটিগুলিকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়। সাউন্ড সিস্টেম ব্যবহারের ক্ষেত্রে নির্ধারিত সময়সীমা ও শব্দমাত্রা সংক্রান্ত নিয়ম মেনে চলার ওপর জোর দেওয়া হয়, যাতে শিশু, প্রবীণ নাগরিক ও অসুস্থ ব্যক্তিদের কোনও অসুবিধা না হয়।

বৈঠকে প্রতিমা বিসর্জন নিয়েও আলোচনা হয়। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আগামী ২১ অক্টোবর বিজয়া দশমীর দিন প্রতিমা বিসর্জন করা হবে। বিসর্জন পর্ব সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে পূজা কমিটিগুলিকে প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় বজায় রেখে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়।

বৈঠকে উপস্থিত পূজা কমিটির প্রতিনিধিরা প্রশাসনের নির্দেশিকা মেনে উৎসব আয়োজনের অঙ্গীকার করেন। দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে এলাকায় সম্প্রীতি, সৌহার্দ্য ও শান্তির পরিবেশ বজায় রাখার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়।
প্রশাসন ও পূজা কমিটিগুলির পারস্পরিক সহযোগিতায় এবারের দুর্গোৎসব নিরাপদ ও নির্বিঘ্নভাবে সম্পন্ন হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন সংশ্লিষ্ট মহল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *