মোহাম্মদ জনি, শ্রীভূমি।
বরাক তরঙ্গ, ১৬ জুন : রাজ্যের প্রতিটি পরিবারের কাছে নিরাপদ ও বিশুদ্ধ পানীয় জল পৌঁছে দেওয়া এবং স্যানিটেশন ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী ও আধুনিক করে তোলার লক্ষ্যে দিসপুরের জনতা ভবনের সম্মেলন কক্ষে জনস্বাস্থ্য কারিগরি (পিএইচই) বিভাগের এক গুরুত্বপূর্ণ উচ্চপর্যায়ের পর্যালোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় সভাপতিত্ব করেন পাথারকান্দি বিধানসভার বিধায়ক তথা রাজ্যের জনস্বাস্থ্য কারিগরি বিভাগের মন্ত্রী কৃষ্ণেন্দু পাল।
সভায় বিভাগের চলমান প্রকল্পগুলির অগ্রগতি, বাস্তবায়নের গতি, ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা এবং জনসেবামূলক কার্যক্রমের মানোন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। মন্ত্রী কৃষ্ণেন্দু পাল বলেন, জনস্বাস্থ্য কারিগরি বিভাগ রাজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জনকল্যাণমূলক দফতর এবং মানুষের দৈনন্দিন জীবনের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত। তাই বিভাগের পরিষেবাকে আরও গতিশীল, স্বচ্ছ ও কার্যকর করে তোলার জন্য সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ। তিনি সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের নির্দেশ দিয়ে বলেন, রাজ্যের প্রত্যন্ত ও দুর্গম এলাকাতেও যেন নিরবচ্ছিন্নভাবে বিশুদ্ধ পানীয় জল ও উন্নত স্যানিটেশন পরিষেবা পৌঁছে যায়, সেদিকে বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে।
সভায় বিশেষভাবে ‘জল জীবন মিশন’-এর অধীনে বাস্তবায়িত বিভিন্ন প্রকল্পের অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হয়। বিভিন্ন জেলার প্রকল্পগুলির বর্তমান অবস্থা, নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে কাজ সম্পন্ন করার কৌশল, বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে উদ্ভূত সমস্যাবলি এবং তার সমাধানের উপায় নিয়ে বিস্তৃত আলোচনা হয়। পাশাপাশি পানীয় জলের গুণগত মান বজায় রাখা, জল সরবরাহ ব্যবস্থার নিয়মিত পর্যবেক্ষণ এবং ভবিষ্যৎ চাহিদার কথা মাথায় রেখে অবকাঠামোগত উন্নয়নের ওপরও জোর দেওয়া হয়।

মন্ত্রী কৃষ্ণেন্দু পাল বলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর স্বপ্নের প্রকল্প ‘জল জীবন মিশন’-এর মাধ্যমে দেশের প্রতিটি পরিবারকে নিরাপদ পানীয় জলের আওতায় আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। অসম সরকারও সেই লক্ষ্য পূরণে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। তিনি চলমান প্রকল্পগুলির কাজ দ্রুত সম্পন্ন করে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নের নির্দেশ দেন।
এছাড়াও সভায় স্যানিটেশন পরিষেবার উন্নয়ন, গ্রামীণ এলাকায় স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ গড়ে তোলা, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির বিষয়েও আলোচনা হয়। ‘স্বচ্ছ ভারত মিশন (গ্রামীণ)’-এর বিভিন্ন কর্মসূচির অগ্রগতি ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা পর্যালোচনা করে সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করা হয়। সভায় উপস্থিত ছিলেন জনস্বাস্থ্য কারিগরি বিভাগের বিশেষ মুখ্য সচিব সৈয়দাইন আব্বাসি, আইএএস; স্বচ্ছ ভারত মিশন (গ্রামীণ), অসম-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক কীর্তি জল্লী, আইএএস; বিভাগের সচিব ও জল জীবন মিশনের মিশন ডিরেক্টর কৈলাশ কার্তিক এন., আইএএস; অতিরিক্ত মিশন ডিরেক্টর গীতিমণি ফুকন; প্রধান অভিযন্তা (জল) পল্লব কুমার দাস; প্রধান অভিযন্তা (স্যানিটেশন) ভাস্কর জ্যোতি শর্মা সহ বিভাগের অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা।
সভায় বিভিন্ন প্রকল্পের অগ্রগতি সম্পর্কিত উপস্থাপনা তুলে ধরা হয় এবং জেলা পর্যায়ে চলমান কাজগুলির বিস্তারিত মূল্যায়ন করা হয়। প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও গুণগত মান বজায় রাখার ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করা হয়। পাশাপাশি সাধারণ মানুষের অভিযোগ ও সমস্যার দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য আরও কার্যকর মনিটরিং ব্যবস্থা গড়ে তোলার বিষয়েও আলোচনা হয়।
মন্ত্রী কৃষ্ণেন্দু পাল বলেন, সরকারি প্রকল্পের সুফল তখনই মানুষের কাছে পৌঁছায় যখন তা নির্ধারিত সময়ে এবং সঠিক মান বজায় রেখে বাস্তবায়িত হয়। তাই প্রতিটি প্রকল্পের কাজ সময়মতো সম্পন্ন করার পাশাপাশি পরিষেবার মানোন্নয়নে আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি। সভা শেষে প্রকল্প বাস্তবায়নে গতি আনয়ন, বিভিন্ন স্তরে সমন্বয় বৃদ্ধি এবং জনমুখী পরিষেবার মানোন্নয়নের লক্ষ্যে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে বলে বিভাগীয় সূত্রে জানা গেছে।



