মুখ্যমন্ত্রীর ফেসবুক লাইভে বন্যা-পীড়িত জেলার জন্য একাধিক বড় ঘোষণা

Spread the news

শিবসাগর, চরাইদেউ, যোরহাট ও গোলাঘাটে আর্থিক সহায়তা, বিদ্যুৎ বিল ও ভূমি রাজস্বে ছাড়



বরাক তরঙ্গ, ১ আগস্ট : মুখ্যমন্ত্রী ড. হিমন্ত বিশ্ব শর্মা শনিবার ফেসবুক লাইভে বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে রাজ্যবাসীর উদ্দেশে বক্তব্য রাখেন। এ সময় তিনি বন্যা-কবলিত জেলাগুলির জন্য একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ত্রাণ ও পুনর্বাসনমূলক ঘোষণা করেন। মুখ্যমন্ত্রী জানান, বিভিন্ন এলাকার মানুষ ধীরে ধীরে নিজেদের বাড়িতে ফিরতে শুরু করেছেন। তবে এখনও বহু মানুষ ত্রাণ শিবিরে আশ্রয় নিয়ে রয়েছেন। পাশাপাশি রাজ্যের একাধিক উপনদীর জল এখনও বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

তিনি জানান, শিবসাগর, চরাইদেউ, যোরহাট ও গোলাঘাট জেলার অরুণোদয় প্রকল্পের উপভোক্তাদের ২,৫০০ টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া শিবসাগর জেলার ৫৫ হাজার পরিবার এবং চরাইদেউ জেলার ২০ হাজার পরিবারকে এককালীন ১৫ হাজার টাকা করে সহায়তা দেওয়া হবে। বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ছাত্র-ছাত্রীদের স্কুল ইউনিফর্মের জন্য মুখ্যমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল থেকে ইতিমধ্যেই ৭.৬২ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রী আরও ঘোষণা করেন, শিবসাগর ও চরাইদেউ জেলার যেসব গৃহস্থালি গ্রাহক মাসে ৩০০ ইউনিট বা তার কম বিদ্যুৎ ব্যবহার করেন এবং ‘জীবনধারা’ প্রকল্পের আওতাভুক্ত গ্রাহকরা, তাঁদের বিদ্যুৎ বিল দিতে হবে না। এই ব্যয় মুখ্যমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল থেকে বহন করা হবে। প্রিপেইড গ্রাহকদের জন্য ৩০০ ইউনিট পর্যন্ত রিচার্জ করে দেওয়া হবে। তবে ৩০০ ইউনিটের বেশি বিদ্যুৎ ব্যবহারকারীদের স্বাভাবিক নিয়মে বিল পরিশোধ করতে হবে। এছাড়া চলতি বছরে শিবসাগর ও চরাইদেউ জেলার বাসিন্দাদের ভূমি রাজস্ব (খাজনা) মকুব করা হয়েছে।

তিনি জানান, এককালীন ১৫ হাজার টাকার সহায়তা ৩, ৪ ও ৫ আগস্টের মধ্যে বিতরণ করা হবে। যাঁরা এখনও বাড়িতে ফিরতে পারেননি, তাঁদের ১০ আগস্টের মধ্যে অতিরিক্ত ১০ হাজার টাকা দেওয়া হবে। আগামী ৭ আগস্ট থেকে ক্ষয়ক্ষতির সরকারি সমীক্ষা শুরু হবে।

মুখ্যমন্ত্রী বলেন, আগামী ১০ আগস্টের মধ্যে ধাপে ধাপে বিদ্যালয় খুলে দেওয়ার চেষ্টা করা হবে। প্রতিটি বিদ্যালয়ের জন্য ২ লক্ষ ১০ হাজার টাকা করে বরাদ্দ করা হবে। একইভাবে ১০ আগস্টের আগেই প্রতিটি নামঘরের জন্য দেড় লক্ষ টাকা এবং অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রগুলির মেরামতের জন্য ২ লক্ষ থেকে আড়াই লক্ষ টাকা পর্যন্ত সহায়তা প্রদান করা হবে।

তিনি আরও জানান, এদিন ৪৬টি বীমা সংস্থার চেয়ারম্যান, ব্যবস্থাপনা পরিচালক (MD) ও প্রধান নির্বাহী আধিকারিকদের (CEO) সঙ্গে বৈঠক হয়েছে। বন্যাজনিত বীমা সংক্রান্ত দাবি দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য প্রতিটি সংস্থা একজন করে নোডাল অফিসার নিয়োগ করবে এবং ২৪ ঘণ্টার হেল্পলাইন চালু করবে। ন্যূনতম নথিপত্রের ভিত্তিতেই বীমা দাবি নিষ্পত্তির আশ্বাস দিয়েছে সংস্থাগুলি।

এছাড়া বন্যা পরিস্থিতির কারণে APSC-এর জনস্বাস্থ্য কারিগরি (PHE) বিভাগের সহকারী অভিযন্তা (Assistant Engineer) পদে নিয়োগ পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে বলেও ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, মুখ্যমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলে ইতিমধ্যে ৯,২২৯ জন সাধারণ মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে আর্থিক সহায়তা প্রদান করেছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *