২৫ এপ্রিল : মধ্যপ্রাচ্য ও দক্ষিণ এশিয়ার পরিবর্তিত ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতির মধ্যে পাকিস্তান সফরে গিয়ে দেশটির প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ এবং সেনাপ্রধান জেনারেল আসিম মুনিরের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। শুক্রবার ইসলামাবাদে এই উচ্চপর্যায়ের দ্বিপাক্ষিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম ডন নিউজের বরাতে জানা যায়, প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে আঞ্চলিক নিরাপত্তা, পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় এবং দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। বৈঠকে পাকিস্তানের উপ-প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার এবং পাকিস্তানে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত রেজা আমিরি মোগাদ্দাম উপস্থিত ছিলেন।
ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা কমিটির প্রধান ইব্রাহিম আজিজি সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, আরাঘচির এই সফর মূলত দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক উন্নয়নের জন্য। এটি কোনোভাবেই পারমাণবিক ইস্যু সংক্রান্ত কোনো আলোচনার অংশ নয়।
এদিকে, এই সফরের সমান্তরালে আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ দেখা দিচ্ছে। তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে কোনো শান্তি চুক্তি স্বাক্ষরিত হলে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি থেকে মাইন অপসারণের আন্তর্জাতিক উদ্যোগে অংশ নিতে প্রস্তুত তুরস্ক। তবে তিনি সতর্ক করে বলেছেন, এই প্রযুক্তিগত জোট যদি ভবিষ্যতে কোনো সংঘাতে জড়ায়, তবে তুরস্ক তার অবস্থান পুনর্বিবেচনা করবে।
অন্যদিকে, ইরানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে দাবি করেছে, যুক্তরাষ্ট্র বর্তমানে যুদ্ধের ‘চোরাবালিতে’ আটকা পড়েছে এবং সম্মান বাঁচিয়ে এই পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসার পথ খুঁজছে। ইরানের ক্রমবর্ধমান সামরিক শক্তির কারণে ওয়াশিংটন এখন রক্ষণাত্মক অবস্থানে রয়েছে বলেও দাবি করেছে তেহরান।
খবর : দৈনিক ইনকিলাব পত্রিকা ডিজিটাল।



