হাইলাকান্দি কংগ্রেসে শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে চার সাধারণ সম্পাদক সাময়িক বহিষ্কৃত

Spread the news

বরাক তরঙ্গ, ২ জুন : হাইলাকান্দি জেলা কংগ্রেস ভবনে ৩০ মে সংঘটিত বিতর্কিত ঘটনাকে কেন্দ্র করে কড়া সাংগঠনিক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে অসম প্রদেশ কংগ্রেস কমিটি (এপিসিসি)। সোনাইয়ের বিধায়ক আমিনুল হক লস্করের বিরুদ্ধে ‘মুর্দাবাদ’ স্লোগান তুলে তাঁকে সভাস্থল ত্যাগ করতে বাধ্য করার ঘটনায় হাইলাকান্দি জেলা কংগ্রেসের চার সাধারণ সম্পাদককে সাময়িকভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে। মঙ্গলবার এপিসিসির সাধারণ সম্পাদক (সংগঠন) রমন্না বড়ুয়া এক নির্দেশ জারি করে জানান, প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি গৌরব গগৈয়ের নির্দেশক্রমে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয়েছে। বহিষ্কৃত নেতারা হলেন জাহান উদ্দিন বড়ভূইয়া, সারিম ছাদিওল, মিতুজ্জামান লস্কর এবং নজমুল হুসেইন বড়ভূইয়া। তাঁরা প্রত্যেকেই হাইলাকান্দি জেলা কংগ্রেস কমিটির সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।

উল্লেখ্য, গত শনিবার হাইলাকান্দি কংগ্রেস ভবনে অনুষ্ঠিত নির্বাচনী পর্যালোচনা বৈঠক চলাকালীন পরিস্থিতি আচমকাই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। বৈঠকের মাঝপথে যুব কংগ্রেসের একাংশ কর্মী সোনাইয়ের বিধায়ক আমিনুল হক লস্করের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ প্রদর্শন করে ‘আমিনুল হক লস্কর মুর্দাবাদ’ স্লোগান দিতে শুরু করেন। অল্প সময়ের মধ্যেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে ব্যাপক বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হয় এবং শেষ পর্যন্ত বিধায়ককে সভাস্থল ছেড়ে বেরিয়ে যেতে হয়।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শুধু হাইলাকান্দিতেই নয়, সমগ্র বরাক উপত্যকার রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়। রাজনৈতিক মহলের মতে, জেলা কংগ্রেসের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব ও গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের প্রকাশ ঘটেছে এই ঘটনার মাধ্যমে।
রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হলো, বহিষ্কৃত চার নেতাই আলগাপুর-কাটলিছড়া কেন্দ্রের বিধায়ক তথা অসম প্রদেশ যুব কংগ্রেসের সভাপতি জুবের এনামের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে পরিচিত। ফলে এই শাস্তিমূলক পদক্ষেপকে ঘিরে দলের অন্দরে নানা জল্পনা-কল্পনা শুরু হয়েছে।

এদিকে, বহিষ্কারের নির্দেশ প্রকাশ্যে আসার পর মঙ্গলবার কংগ্রেস ভবন চত্বরে ফের উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। একাংশ কর্মী সেখানে জড়ো হয়ে ‘আমিনুল হক লস্কর জিন্দাবাদ’ এবং ‘যুব কংগ্রেস মুর্দাবাদ’ স্লোগান দিতে থাকেন। এর ফলে জেলা কংগ্রেসের অভ্যন্তরীণ বিভাজন আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে। রাজ্যে নির্বাচনের পর কংগ্রেস সংগঠন পুনর্গঠনের প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার প্রেক্ষাপটে হাইলাকান্দির এই ঘটনাপ্রবাহ প্রদেশ নেতৃত্বের সামনে নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে বলে রাজনৈতিক মহলের অভিমত। শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হলেও, এর মাধ্যমে দলের অভ্যন্তরীণ অসন্তোষ কতটা প্রশমিত হবে তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে। বরং এই পদক্ষেপ আগামী দিনে হাইলাকান্দি জেলা কংগ্রেসের রাজনীতিতে আরও তীব্র মেরুকরণের ইঙ্গিত বহন করছে বলে মনে করা হচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *