মোহাম্মদ জনি, পাথারকান্দি।
বরাক তরঙ্গ, ২০ এপ্রিল: কালবৈশাখীর তাণ্ডবে বিধ্বস্ত হয়ে পড়েছে পাথারকান্দি ও আশপাশের বিস্তীর্ণ এলাকা। সোমবার ভোররাত প্রায় ৪টা নাগাদ হঠাৎ করেই শুরু হয় প্রবল ঝড়-বৃষ্টি। ঝড়ে শহর থেকে গ্রাম, এমনকি চা-বাগান এলাকাও এই দুর্যোগে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্রবল ঝোড়ো হাওয়ার দাপটে উপড়ে পড়ে অসংখ্য গাছ, ভেঙে যায় বিদ্যুতের খুঁটি, ফলে বিস্তীর্ণ অঞ্চল অন্ধকারে ডুবে যায়। বহু জায়গায় রাস্তাঘাট অবরুদ্ধ হয়ে পড়ায় দীর্ঘ সময় যান চলাচল ব্যাহত হয়।
পাথারকান্দি শহর, পাথারিগাঁও, ভুবরিঘাট, কলকলিঘাট, বিলবাড়ীসহ একাধিক এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির খবর মিলেছে। ঝড়ে বহু কাঁচা ঘরবাড়ি, দোকানপাট ও সরকারি স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অনেক বাড়ির টিনের চাল উড়ে গেছে, কোথাও আবার গাছ ভেঙে বসতঘরের উপর পড়ে ব্যাপক ক্ষতি সাধন করেছে। প্রাথমিক হিসেবে প্রায় পাঁচ শতাধিক পরিবার আংশিক বা সম্পূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানা গেছে।

সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়েছেন দরিদ্র ও নিম্ন আয়ের মানুষ। বহু পরিবার রাতের অন্ধকারে ঘর ছেড়ে বাইরে আশ্রয় নিতে বাধ্য হন। কৃষিক্ষেত্রেও ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে—বোরো ধান, সবজি, কলা ও সুপারি বাগান নষ্ট হয়ে যাওয়ায় কৃষকদের মধ্যে হতাশা নেমে এসেছে।
ঝড়ের প্রভাব পড়েছে শিক্ষা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানেও। একাধিক স্কুলের ছাউনি উড়ে গেছে, পাথারিগাঁওয়ের একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ওপর গাছ ভেঙে পড়ে ভবনের ক্ষতি হয়েছে। মন্দির ও মসজিদেও ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে।

ঝড়ের পরপরই প্রশাসন, বিদ্যুৎ বিভাগ ও উদ্ধারকারী দল মাঠে নেমে ক্ষয়ক্ষতির পর্যালোচনা শুরু করেছে। রাস্তা পরিষ্কার ও বিদ্যুৎ সংযোগ পুনরুদ্ধারের কাজ চলছে বলে জানানো হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্তদের দ্রুত সহায়তা দেওয়ার আশ্বাসও দিয়েছে প্রশাসন।



