শীর্ষ নেতাদের আটক করেও আন্দোলন থামানো যাবে না, প্রতিদিন যন্তর মন্তরে মিছিলের ডাক CJP-র

Spread the news

১০ অক্টোবর : শীর্ষ নেতৃত্বকে আটক করেও আন্দোলন থামানো যাবে না—দিল্লিতে দিনভর ধরপাকড়ের পর এই বার্তাই দিল ককরোচ জনতা পার্টি (CJP)। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ বা অপসারণের দাবিতে এবার প্রতিদিন দিল্লির যন্তর মন্তরে মিছিল করার ঘোষণা দিলেন দলের নেতা অজিঙ্ক শিন্ডে। শনিবার, ১০ অক্টোবর, দলের প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে, আশুতোষ রাঙ্কা ও সৌরভ দাস-সহ একাধিক নেতা-কর্মীকে আটক করা হলেও আন্দোলন থেকে পিছিয়ে আসতে নারাজ দলীয় নেতৃত্ব। CJP-র ‘দিল্লি চলো’ ও যন্তর মন্তর ঘেরাও কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে শনিবার রাজধানীতে ব্যাপক পুলিশি তৎপরতা দেখা যায়। কর্মসূচিতে যোগ দিতে আসা বিক্ষোভকারীদের মধ্যে অন্তত তিন হাজার জনকে আটক করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। আন্দোলনকে সমর্থন জানিয়ে বিরোধী শিবিরের একাধিক নেতাও প্রতিবাদ কর্মসূচিতে অংশ নেন।

সকালে মুম্বই থেকে বিমানে দিল্লিতে পৌঁছনোর পরই বিমানবন্দর থেকে আটক করা হয় CJP প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে, আশুতোষ রাঙ্কা ও সৌরভ দাসকে। এর আগে বিমান থেকে নামার আগেই তাঁদের আটক করার খবর সামনে আসে। দিনভর ধরপাকড়ের পর সাংবাদিক বৈঠকে অজিঙ্ক শিন্ডে জানান, জ্ঞানেশ কুমার মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের পদ থেকে না সরা পর্যন্ত প্রতিদিন যন্তর মন্তরের উদ্দেশে মিছিল করা হবে।

শিন্ডের কথায়, “এবার থেকে প্রতিদিন যন্তর মন্তরে মিছিল হবে, যত দিন না জ্ঞানেশ কুমারকে মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের পদ থেকে সরানো হচ্ছে।”

ভোটার তালিকায় কারচুপি এবং শাসক বিজেপির সঙ্গে নির্বাচন কমিশনের যোগসাজশের অভিযোগ তুলে এই আন্দোলনের ডাক দিয়েছে CJP। তবে এগুলি দলের অভিযোগ, স্বাধীনভাবে প্রমাণিত তথ্য নয়। নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনও প্রতিক্রিয়ার উল্লেখও এই প্রতিবেদনে নেই।

দিনের শুরুতেই অভিজিৎ দীপকে ভিডিয়ো বার্তায় জানিয়েছিলেন, তাঁর অনুপস্থিতিতে আন্দোলনের নেতৃত্ব দেবেন অজিঙ্ক শিন্ডে। সেই ঘোষণা অনুযায়ী, শীর্ষ নেতৃত্বের একাংশ আটক থাকাকালীনই আন্দোলন আরও জোরদার করার বার্তা দেন শিন্ডে।
রাতের দিকে অধিকাংশ আটক নেতা-কর্মীকে ছেড়ে দেওয়া হলেও CJP-র শীর্ষ নেতৃত্ব এবং ইউটিউবার ধ্রুব রাঠী পুলিশি হেফাজতে রয়েছেন বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। অভিজিৎ দীপের ঠাকুমার প্রয়াণের মধ্যেই তাঁর হেফাজত নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে বলেও জানা গেছে।

শনিবারের ঘটনার পর প্রতিদিন যন্তর মন্তরে মিছিলের ঘোষণায় দিল্লিতে আন্দোলন আগামী দিনগুলিতেও অব্যাহত থাকার ইঙ্গিত মিলেছে। তবে কর্মসূচি ঘিরে পুলিশের পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে, এখন সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *