​হাইলাকান্দির জেলা উন্নয়ন কমিটির বৈঠকে প্রশাসনিক দক্ষতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব

Spread the news

জনসংযোগ, হাইলাকান্দি।
​বরাক তরঙ্গ, ২৪ জুলাই :
হাইলাকান্দি জেলায় চলমান সরকারি প্রকল্প, পরিকাঠামোগত উন্নয়ন এবং বিভিন্ন বিভাগের কাজের অগ্রগতি সম্পর্কে এক বিস্তৃত পর্যালোচনা করতে শুক্রবার হাইলাকান্দিতে জেলা উন্নয়ন কমিটির এক সভা অনুষ্ঠিত হয়। ​বৈঠকে সভাপতিত্ব করে ​জেলা কমিশনার জয় বিকাশ বিভাগ গুলিকে তাদের প্রশাসনিক দক্ষতা বাড়াতে, স্থানীয় উদ্যোক্তাদের উৎসাহিত করতে এবং জনসেবা সঠিকভাবে পৌঁছে দিতে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ দেন। তথ্যের ভিত্তিতে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে, বিভাগীয় প্রধানদের কর্মক্ষমতার ডেটা বা তথ্য গুরুত্ব সহকারে সংগ্রহ করতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি, বাস্তবমুখী উন্নয়ন নজরদারিতে রাখতে পরবর্তী প্রতিটি বৈঠকে কাজের পরিমাপযোগ্য ও পর্যায়ক্রমিক অগ্রগতির রিপোর্ট পেশ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

​স্থানীয় যুবসমাজকে অনুপ্রাণিত করতে এবং স্বনির্ভরতার সংস্কৃতি গড়ে তুলতে, প্রশাসন বিভিন্ন স্বনির্ভর প্রকল্পে সফল হওয়া সুবিধাভোগীদের চিহ্নিত করে তাদের সাফল্যের গল্প সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে তুলে ধরার নির্দেশ দিয়েছে। পরিকাঠামো উন্নয়নের কাজ প্রসঙ্গে জেলা কমিশনার নির্দেশ দেন যে, বহুমুখী প্রকল্পগুলোর ক্ষেত্রে বিভাগীয় সমন্বয় বজায় রাখতে হবে, যাতে কাজের ক্ষেত্রে কোনো বাধা না আসে এবং প্রশাসনিক বিলম্ব দ্রুত দূর করা যায়।

​শিক্ষা বিভাগকে বিশেষ নির্দেশ দিয়ে বলা হয়েছে, সম্প্রতি স্কুল একীভূতকরণের (স্কুল মার্জার) ফলে ফাঁকা পড়ে থাকা ভবনগুলোর একটি পূর্ণাঙ্গ তালিকা বা ইনভেন্টরি তৈরি করতে। এছাড়া, সরকারি ঋণ প্রকল্পগুলোর আওতায় ঋণ দেওয়ার পরিধি বাড়াতে আধিকারিকদের প্রকৃত আবেদনকারীদের চিহ্নিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ব্যাংক কর্তৃক আবেদন বাতিল হওয়ার বিষয়টিকে মাথায় রেখে, নির্ধারিত লক্ষ্যের চেয়ে বেশি প্রস্তাব জমা দেওয়ার কথা বলা হয়েছে, যাতে পর্যাপ্ত আবেদন হাতে থাকে।

​প্রশাসন প্রকল্পের দীর্ঘমেয়াদী স্থায়ীত্বের ওপর জোর দিয়ে বাধ্যতামূলকভাবে কাজ শেষ হওয়ার পরবর্তী ফলো-আপ বা পর্যবেক্ষণ করার নির্দেশ দিয়েছে, যাতে সুবিধাভোগীদের সাফল্যের হার পরিমাপ করা যায় এবং নন-পারফর্মিং অ্যাসেট (NPA) বা অকার্যকর সম্পদের পেছনে আসল কারণগুলো খুঁজে বের করা সম্ভব হয়। জননিরাপত্তা রক্ষার্থে পশু চিকিৎসা বিভাগকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে পশুপালন বিভাগের সাথে সমন্বয় রেখে কাজ করার, যাতে বেওয়ারিশ বা পথকুকুর ব্যবস্থাপনার বিষয়ে আদালতের নির্দেশনাবলী সঠিকভাবে মেনে চলা নিশ্চিত করা যায়। সবশেষে, জেলা কমিশনার কৃষক নিবন্ধন সহ গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক প্রক্রিয়াগুলোতে পূর্ণাঙ্গ নাম নথিভুক্তকরণ নিশ্চিত করার আহ্বান জানান, যাতে কোনো যোগ্য নাগরিক সরকারি জনকল্যাণমূলক সুবিধা থেকে বঞ্চিত না হন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *