বরাক তরঙ্গ, ৮ সেপ্টেম্বর : গুরুচরণ বিশ্ববিদ্যালয়ের সভাকক্ষে মঙ্গলবার যথাযোগ্য মর্যাদায় ভারতরত্ন সুধাকণ্ঠ ড. ভূপেন হাজরিকার জন্মশতবর্ষ উদযাপন করা হয়। অনুষ্ঠানের শুরুতে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক নিরঞ্জন রায়, নিবন্ধক ড. বিদ্যুৎ কান্তি পাল, শৈক্ষিক নিবন্ধক ড. অভিজিৎ নাথ, বরিষ্ঠ অধ্যাপক আশরাফ হোসেনসহ বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষিকা ও ছাত্রছাত্রীরা ভূপেন হাজরিকার প্রতিকৃতিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। অনুষ্ঠানে শৈক্ষিক নিবন্ধক ড. অভিজিৎ নাথ বক্তব্য রাখতে গিয়ে ভূপেন হাজৰিকার গানের সামাজিক ও মানবিক প্রভাবের কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় ভূপেন হাজরিকার ‘গঙ্গা আমার মা, পদ্মা আমার মা’ গানটি ভারতবর্ষের প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলেও জনপ্রিয় হয়ে উঠেছিল। এই গান গেয়ে মুক্তিযুদ্ধের জন্য অর্থ সংগ্রহ করা হয়েছিল বলেও তিনি উল্লেখ করেন। তাঁর গান মানুষকে বিভেদ ভুলে ঐক্যবদ্ধ হতে অনুপ্রাণিত করে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
নিবন্ধক ড. বিদ্যুৎকান্তি পাল ভূপেন হাজরিকার কর্মময় জীবন নিয়ে সংক্ষিপ্ত আলোচনা করেন। এরপর বরিষ্ঠ অধ্যাপক আশরাফ হোসেন তাঁর বর্ণময় কর্মজীবন নিয়ে বিস্তারিত বক্তব্য রাখেন। তিনি বলেন, ভূপেন হাজৰিকা ছিলেন আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন গায়ক, গীতিকার ও সুরকার।
উপাচার্য অধ্যাপক নিরঞ্জন রায় বলেন, ভূপেন হাজরিকা আন্তর্জাতিক মানবতাবাদী হলেও আদ্যন্ত একজন ভারতীয় ছিলেন। নিজের জীবনদর্শন অনুযায়ী তিনি আজীবন কাজ করে গেছেন এবং ভারতবর্ষের মূল দর্শন ‘মানবতা’র পূজারি ছিলেন। তাঁর মানবতার দর্শনকে সামনে রেখে বর্তমান যুব প্রজন্মকে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান তিনি। একই সঙ্গে উন্নত ও বিকশিত ভারত গড়ার লক্ষ্যে তরুণ সমাজকে এগিয়ে আসার কথাও বলেন উপাচার্য।
অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্বে আয়োজিত হয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগের অধ্যাপিকা ড. পৌলমী চক্রবর্তী ভূপেন হাজৰিকার ‘আমি এক যাযাবর’ গানটি পরিবেশন করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী সুনন্দা শুক্লবৈদ্য পরিবেশন করেন ‘মানুষ মানুষের জন্য’ গানটি। এরপর অসমিয়া বিভাগের শিক্ষক অবন বরগোঁহাই ভূপেন হাজরিকার গাওয়া একটি অসমিয়া গান পরিবেশন করেন।
অনুষ্ঠানের শেষপর্বে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র প্রদীপ সিনহা ভূপেন হাজরিকার সঙ্গীত পরিচালিত ‘রুদালী’ সিনেমার ‘দিল হুম হুম করে’ গানসহ একটি অসমিয়া গান পরিবেশন করেন।
সমগ্র অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ড. উত্তম পালুয়া।



